০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৫

বিশ্বকাপে রোনালদো-এমবাপ্পে যেসব হুমকি পেয়েছিলেন

এমবাপ্পে ও রোনালদো  © সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও কিলিয়ান এমবাপ্পেসহ একাধিক তারকা ফুটবলার হুমকির মুখে পড়েছিলেন। পুলিশের নথিতে রোনালদোর হোটেলে সন্দেহজনক ব্যক্তির উপস্থিতি, এমবাপ্পের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আক্রমণ এবং অন্য খেলোয়াড়দের মৃত্যুর হুমকি পাওয়ার মতো বেশ কয়েকটি ঘটনা উঠে এসেছে।

বিশ্বকাপ চলাকালে রোনালদোর নিরাপত্তা নিয়ে ফিফার এক কর্মী সতর্কতা জারি করেন। এক 'সন্দেহজনক ব্যক্তি' পর্তুগিজ তারকার থাকার জায়গা সম্পর্কে 'বিস্তারিত তথ্য' জানতে চাইছিল। পরে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে।

এরপর আরেক ব্যক্তি রোনালদোর হোটেলে ঢুকে তার সঙ্গে একই লিফটে ওঠার চেষ্টা করে। পুলিশ তাকে আটক করলে সে দাবি করে, রোনালদোর সঙ্গে শুধু একটি সেলফি তুলতে চেয়েছিল।

রোনালদোর পাশাপাশি ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেও বিশ্বকাপ চলাকালে নানা ধরনের হুমকি ও আক্রমণের শিকার হন। ফ্রান্সের কাছে প্যারাগুয়ের হারের পর প্যারাগুয়ের সমর্থকেরা এমবাপ্পের নাম ও ছবি ব্যবহার করে তৈরি একটি কুশপুতুল পুড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণবাদী আক্রমণেরও শিকার হতে হয়। পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারাগুয়ের এক সিনেটরও এমবাপ্পেকে লক্ষ্য করে করা বর্ণবাদী মন্তব্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

শুধু রোনালদো ও এমবাপ্পে নন, বিশ্বকাপে মাঠের ভুলের কারণেও কয়েকজন খেলোয়াড়কে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে নরওয়ের স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার সোরলোথ সতীর্থ এরলিং হলান্ডকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দিতে না পারার পর তাকে ও তার স্ত্রীকে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়।

কলম্বিয়ার খেলোয়াড় জামিন্তন কাম্পাজ পেনাল্টি মিস করার পর তিনিও হুমকির মুখে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর তিনি সতীর্থদের সঙ্গে নিজ দেশে ফিরতে পারেননি।

কলম্বিয়ার ফুটবলে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে এমন আশঙ্কার পুরোনো ইতিহাসও রয়েছে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল করার পর কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবারকে মাদক চক্রের সদস্যরা হত্যা করেছিল।

বিশ্বকাপে রেফারিরাও হুমকি থেকে রেহাই পাননি। আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে ৬ হাজারের বেশি 'হুমকিমূলক বার্তা' পাঠানো হয়।

মিশরের সমর্থকেরা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) উইলি দেলাজোকেও ক্ষুব্ধ বার্তা পাঠায়। এসব বার্তার মধ্যে মৃত্যুর হুমকিও ছিল।

এদিকে, বিশ্বকাপ চলাকালে শুধু ব্যক্তিগত হুমকিই নয়, কয়েকটি দলকেও কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে থাকতে হয়। দক্ষিণ কোরিয়া গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর পুরো দলকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়।

দলের কোচ হং মিউং-বোকে নিয়ে দেশে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। এমনকি তাকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

ইংল্যান্ড দলের মিডিয়া সেন্টারেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এক ব্যক্তি হাতে একটি রেঞ্চ নিয়ে সেখানে ঢুকে পড়ে এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে চিৎকার করতে শুরু করে। এতে সেখানে থাকা সংবাদকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্বকাপের অন্যতম কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে ইংল্যান্ড দলকে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ঘাঁটিতে রাখা হয়েছিল। দলের হোটেলকে কার্যত একটি 'দুর্গে' পরিণত করা হয়। সম্ভাব্য স্নাইপারদের নজর ঠেকাতে হোটেলের চারপাশে কংক্রিটের ব্যারিয়ার ও বড় পর্দা দিয়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয়।

ড্রোন হামলা ঠেকাতে ওই এলাকায় নো-ফ্লাই জোনও চালু করা হয়। ৫৪ কক্ষের দ্য ইন অ্যাট মেডোব্রুক হোটেলের বিপরীতে একটি কমান্ড সেন্টার স্থাপন করা হয়। হোটেলটির প্রতি রাতের ভাড়া ছিল ২৬০ পাউন্ড।

কানসাসের প্রেইরি ভিলেজে অবস্থিত ওই কমপ্লেক্সের চারপাশে সশস্ত্র পুলিশ, নিরাপত্তাকর্মী এবং বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা নিয়মিত টহল দেন।

বিশ্বকাপজুড়ে এসব ঘটনা খেলোয়াড়, রেফারি ও দলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করে। হুমকির ধরন ও মাত্রার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভিন্ন ভেন্যু ও দলের ঘাঁটিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিতে হয়।