০১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৩

আর্জেন্টিনা দলের তীব্র সমালোচনা করলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেস   © টিডিসি ফটো

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর মালভিনাস (ফকল্যান্ড) দ্বীপপুঞ্জের পতাকা প্রদর্শন করায় আবারও আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই। তিনি বলেছেন, ফুটবলের সঙ্গে রাজনীতি মেশানো উচিত নয়। তার মতে, মালভিনাস ইস্যুতে আবেগ নয়, কূটনৈতিক পথেই সমাধান খুঁজতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, তার সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা মাঠে মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জের পতাকা প্রদর্শন করেন। এরপর বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়। এ ঘটনায় ফিফাও আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে মাইলেই নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মার্কিন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী এলভিস প্রিসলির একটি ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, 'ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে এলভিসকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, তিনি রাজনীতি নিয়ে মত দেন না, কারণ তিনি একজন বিনোদনকর্মী।'

এরপর ফুটবল ও রাজনীতিকে আলাদা রাখার পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, 'পানি আর তেল যেমন একসঙ্গে মেশে না, তেমনি ফুটবলের সঙ্গে রাজনীতিও মেশানো ঠিক নয়। এটি একটি খেলা, একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।'

মাইলেই জানান, এ বিষয়ে আর্জেন্টিনা দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির অবস্থানের সঙ্গেও তিনি একমত।

তিনি বলেন, 'স্কালোনি যে অবস্থান নিয়েছেন, আমি ঠিক সেই অবস্থানেই আছি।'

তবে ফুটবলার ও রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব এক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, খেলোয়াড়রা আবেগের বশে অনেক কিছু করতে পারেন, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই।

মাইলেই বলেন, 'ফুটবলাররা মুহূর্তের আবেগে এমন কিছু করতে পারে। কিন্তু একজন রাজনীতিবিদের ক্ষেত্রে তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এমন কোনো বক্তব্য যুদ্ধ ঘোষণার মতো পরিস্থিতিও তৈরি করতে পারে।'

সাক্ষাৎকারে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়েগো ম্যারাডোনার দুটি ঐতিহাসিক গোল নিয়েও মন্তব্য করেন আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আবেগ দিয়ে ইতিহাস বদলানো যায় না।

মাইলেই বলেন, 'সংযম বজায় রাখা দরকার। ম্যারাডোনা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যে দুটি গোলই করুক না কেন, তাতে তো মালভিনাস আমাদের কাছে ফিরে আসেনি।'

মালভিনাস ইস্যুতে নিজের সরকারের কূটনৈতিক সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার দাবি, আন্তর্জাতিক পরিসরে আর্জেন্টিনার অবস্থান আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে।

তিনি বলেন, 'মালভিনাস পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে আমরা কূটনৈতিক পথেই অগ্রগতি করেছি। আমরা জাতিসংঘকে এমন অবস্থানে নিয়ে যেতে পেরেছি, যেখানে যুক্তরাজ্যকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করা হয়েছে। সেটি ইতোমধ্যে হয়েছে। আমরা যেভাবে কূটনৈতিক কাজ করেছি, তাতে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। চীনও সমর্থন দিয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের একটি অংশও আমাদের অবস্থানকে সমর্থন করছে।'

এটাই প্রথম নয়, এর আগেও একই ঘটনায় আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সমালোচনা করেছিলেন মাইলেই। সেমিফাইনালে জয়ের পর খেলোয়াড়রা 'মালভিনাস আর্জেন্টিনার' স্লোগান দিয়ে উদযাপন করলে তিনি সেটিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

সেসময় তিনি বলেন, 'ফুটবলাররা কূটনীতির অংশ নয়। এটি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।'

মাইলেই আবারও জোর দিয়ে বলেন, মালভিনাসের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নকে ফুটবল মাঠের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, 'সৌভাগ্যবশত, এসব অনুপযুক্ত মন্তব্য এমন কিছু মানুষের কাছ থেকে আসে, যাদের কেউ গুরুত্ব দেয় না। দুই বিষয়কে এক করা উচিত নয়। একটি ফুটবল ম্যাচ শুধু ফুটবল ম্যাচই। কিছু ভুল কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। মালভিনাস আর্জেন্টিনার এবং আমরা কূটনৈতিক পথেই সেটি পুনরুদ্ধার করব।'

১৯৮২ সালের আর্জেন্টিনা-যুক্তরাজ্য যুদ্ধের পর থেকে মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব ইস্যু দুই দেশের মধ্যে অন্যতম স্পর্শকাতর রাজনৈতিক বিষয়। আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপপুঞ্জটির মালিকানা দাবি করে আসছে, অন্যদিকে যুক্তরাজ্যও তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনা দলের পতাকা প্রদর্শন নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। প্রেসিডেন্ট মাইলেইর সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল।