মেসি নাকি এমবাপ্পে—কে সেরা? দেখুন পরিসংখ্যান
২০২৫-২৬ মৌসুম শেষে আবারও মুখোমুখি হয়েছেন দুই প্রজন্মের দুই সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। গোল, অ্যাসিস্ট, ড্রিবল থেকে শুরু করে সামগ্রিক পারফরম্যান্স—সব দিকের পরিসংখ্যান এখন নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গোলসংখ্যায় এগিয়ে এমবাপ্পে, তবে খেলার সামগ্রিক প্রভাব, সুযোগ তৈরি ও গড় রেটিংয়ে এগিয়ে রয়েছেন মেসি।
২০২৬ বিশ্বকাপের পর এই তুলনা আরও বেশি আলোচনায় এসেছে। যদিও একজন খেলেছেন মেজর লিগ সকারে (এমএলএস), অন্যজন লা লিগায়। বয়সের পার্থক্যও প্রায় ১২ বছর। তাই দুই ফুটবলারের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের সময় সেই বাস্তবতাও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।
প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে মেসি খেলেছেন ৪৯ ম্যাচ। অন্যদিকে এমবাপ্পে মাঠে নেমেছেন ৬০ ম্যাচে।
গোলের দিক থেকে এগিয়ে ফরাসি তারকা। এমবাপ্পে ৬০ ম্যাচে করেছেন ৫৮ গোল, যার মধ্যে পেনাল্টি ছাড়া গোল ৪৩টি। অন্যদিকে মেসি ৪৯ ম্যাচে করেছেন ৪৫ গোল, যার মধ্যে পেনাল্টি ছাড়া গোল ৪১টি।
তবে গোল বানানোর ক্ষেত্রে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। পুরো মৌসুমে মেসি করেছেন ৩০টি অপটা অ্যাসিস্ট। সেখানে এমবাপ্পের অ্যাসিস্ট মাত্র ১৩টি।
ড্রিবলিংয়েও কিছুটা এগিয়ে এমবাপ্পে। তিনি সফল ড্রিবল করেছেন ১৩৬টি, আর মেসির সফল ড্রিবল ১১৭টি।
বড় সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে আবারও এগিয়ে মেসি। তিনি সৃষ্টি করেছেন ৪৬টি 'বিগ চান্স', যেখানে এমবাপ্পের সংখ্যা ২০।
লক্ষ্যে রাখা শটের সংখ্যায় এগিয়ে এমবাপ্পে। তিনি অন টার্গেট শট নিয়েছেন ১৩৪টি, মেসির ছিল ১০৬টি।
সঠিক পাসের সংখ্যাতেও এগিয়ে আর্জেন্টাইন মহাতারকা। মেসি সফলভাবে ১ হাজার ৭৬৫টি পাস দিয়েছেন। এমবাপ্পের সফল পাস ১ হাজার ৬১০টি।
রক্ষণাত্মক অবদানেও মেসি এগিয়ে। তার ডিফেন্সিভ অ্যাকশন ৪৬টি, আর এমবাপ্পের ১৬টি।
সবশেষে গড় রেটিংয়েও ব্যবধান স্পষ্ট। মেসির গড় রেটিং ৮.৫৫, যেখানে এমবাপ্পের ৭.৭৫।
অর্থাৎ, গোলসংখ্যায় এমবাপ্পে এগিয়ে থাকলেও অ্যাসিস্ট, বড় সুযোগ সৃষ্টি, পাস, রক্ষণাত্মক অবদান এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্সে মেসিই এগিয়ে রয়েছেন।
৩৯ বছর বয়সেও মেসি দেখিয়ে দিয়েছেন, তিনি এখনো বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। অন্যদিকে ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে গোল করার দক্ষতায় কাটিয়েছেন দুর্দান্ত একটি মৌসুম। তবু সামগ্রিক অবদানের বিচারে মেসি এখনো সমানভাবে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন।
দলীয় সাফল্যের দিক থেকেও দুই তারকার মৌসুম ছিল ভিন্ন। মেসির নেতৃত্বে ইন্টার মায়ামি প্রথমবারের মতো এমএলএস শিরোপা জিতেছে। পাশাপাশি আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছেন তিনি, যদিও শেষ পর্যন্ত রানার্সআপ হতে হয়েছে।
অন্যদিকে এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে কোনো শিরোপা জিততে পারেননি। বিশ্বকাপেও ফ্রান্সকে চতুর্থ স্থান নিয়েই আসর শেষ করতে হয়েছে।
ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকে অবশ্য এমবাপ্পে ছিলেন অসাধারণ। তিনি লা লিগা, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপ—তিন প্রতিযোগিতাতেই সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছেন।
মেসিও গোল করেছেন নিয়মিত। তবে তিনি সবচেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছেন সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়ে। ৪৯ ম্যাচে ৪৫ গোলের পাশাপাশি করেছেন ৩০টি অ্যাসিস্ট।
বিশ্বকাপেও নতুন ইতিহাস গড়েছেন দুই তারকা। তারা দুজনই জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙেছেন।
বিশ্বকাপ শেষে মেসির মোট গোল দাঁড়িয়েছে ২১টি। ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি করেছেন ৮ গোল।
অন্যদিকে এমবাপ্পে এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তার মোট গোল ২২টি। এবারের বিশ্বকাপে তিনি করেছেন ১০ গোল এবং হয়েছেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
বিশ্বকাপ শেষে মেসি ইন্টার মায়ামিতে ফিরে এমএলএসে টানা দ্বিতীয় শিরোপার লড়াইয়ে নামবেন। অন্যদিকে এমবাপ্পেকে নতুন কোচ জোসে মরিনহোর অধীনে রিয়াল মাদ্রিদ এবং জিনেদিন জিদানের অধীনে ফ্রান্স জাতীয় দলে নতুন অধ্যায় শুরু করতে হবে। শিরোপাহীন একটি মৌসুমের হতাশা কাটিয়ে নতুন মৌসুমে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য থাকবে ফরাসি এই ফরোয়ার্ডের।