২৯ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৭

মেসির সেই ‘অসম্মান করবেন না’ মন্তব্য নিয়ে মুখ খুললেন রেফারি

রেফারির সঙ্গে মেসির সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি  © সংগৃহীত

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে ঘটে যাওয়া বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং লিওনেল মেসির সঙ্গে মাঠের উত্তপ্ত কথোপকথন নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন ম্যাচ রেফারি জোয়াও পিনেইরো। তার দাবি, ঘটনাটি যতটা আলোচিত হয়েছে, বাস্তবে সেটি ছিল ফুটবলের মাঠে খুবই স্বাভাবিক একটি সংলাপ।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৮ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ রেফারি জানান, ম্যাচের ওই মুহূর্তে প্রথমে তার রেফারিং দল আর্জেন্টিনার লিয়েন্দ্রো পারেদেসের চ্যালেঞ্জকে হলুদ কার্ডযোগ্য ফাউল হিসেবে দেখেছিল। তবে ভিএআর পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয়, সেখানে কোনো ফাউলই হয়নি। বরং সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলো ইচ্ছাকৃতভাবে ফাউলের অভিনয় করেছিলেন। আর সেটি যেহেতু তার দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের পরিস্থিতি ছিল, তাই নিয়ম অনুযায়ী তাকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে পাঠানো হয়। পিনেইরোর ভাষ্য, এটি প্রথম হলুদ কার্ডের ঘটনাও হলে একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।

ম্যাচে মেসির সঙ্গে হওয়া কথোপকথন প্রসঙ্গে পিনেইরো বলেন, অধিনায়ক হিসেবে মেসি বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করছিলেন, যেমনটি অন্য অধিনায়কেরাও করে থাকেন। নতুন নিয়মেও অধিনায়কদের সঙ্গে রেফারির সংলাপের সুযোগ রয়েছে। তার মতে, ঘটনাটি এতটা আলোচিত হয়েছে শুধুমাত্র মেসির নাম জড়িয়ে যাওয়ার কারণে। তিনি বলেন, মেসি বা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো তারকারা জড়িত থাকলে মানুষ বিষয়গুলো ভিন্নভাবে দেখে, অথচ এমন আলোচনা মাঠে প্রায়ই হয়ে থাকে।

পিনেইরোর দাবি, মাঠের সেই কথোপকথন ছিল পুরোপুরি গঠনমূলক। তিনি বলেন, প্রতিটি বিতর্কেই হলুদ কার্ড দেখানো জরুরি নয়। কখনও খেলোয়াড় কোনো সিদ্ধান্ত ভুল বুঝতে পারে, তখন আলোচনা করেই বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়। এরপর স্বাভাবিকভাবেই খেলা এগিয়ে চলে। একইসঙ্গে বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে তিনি অসাধারণ বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, বিশ্বকাপের মহিমা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন; সেখানে অংশ না নিলে সেই অনুভূতি উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।

ম্যাচের ৭২টম মিনিটে সুইজারল্যান্ড সমতায় ফেরার কিছুক্ষণ পরই বিতর্কের সূত্রপাত। ভিএআর পর্যালোচনায় এম্বোলোর ডাইভ ধরা পড়ার পর তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয় এবং সুইসরা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

ওই ম্যাচে মেসি ও পিনেইরোর কথোপকথনের দৃশ্যও ক্যামেরায় ধরা পড়ে। সেখানে আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে রেফারির উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “ভালোভাবে কথা বলুন, অসম্মান করবেন না। আমার সঙ্গে সম্মান রেখে কথা বলুন। আমিও আপনার সঙ্গে সম্মান রেখেই কথা বলেছি।”

তবে পরবর্তীতে ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) জানায়, এম্বোলোকে লাল কার্ড দেখানোর ক্ষেত্রে ভিএআর ব্যবহারের প্রক্রিয়ায় ভুল ছিল। সংস্থাটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ ধারা কেবল অপরাধী খেলোয়াড়কে শনাক্ত করার জন্য প্রযোজ্য। কোনো ঘটনার ধরন পরিবর্তন বা নতুনভাবে মূল্যায়নের জন্য এই বিধান ব্যবহার করা যায় না।

যদিও আইএফএবির এমন ব্যাখ্যা এসেছে, পিনেইরো এখনও মনে করেন মাঠে অধিনায়কদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা ম্যাচ পরিচালনার স্বাভাবিক অংশ। ফুটবলে রেফারি ও খেলোয়াড়দের মধ্যে ইতিবাচক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ফিফার সাম্প্রতিক ব্যাখ্যা ও পদক্ষেপকেও তিনি সমর্থন জানান।