জার্মানির কোচ হয়েই ক্লপের কঠোর বার্তা, ‘আমার পরিবারের পেছনে লাগলে আমি মুহূর্তও দেরি করব না’
জার্মানি জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই কঠোর অবস্থান জানিয়ে দিলেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তার পরিবারের ওপর ব্যক্তিগত আক্রমণ হলে এক মুহূর্তও দেরি না করে দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। একই সঙ্গে তিনি সংবাদমাধ্যমকে দলের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে শেষ ৩২-এর ম্যাচে প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেওয়ার পর জুলিয়ান নাগেলসমান জার্মানির কোচের পদ ছাড়েন। এরপর তার স্থলাভিষিক্ত হন সাবেক লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। জাতীয় দলের কোচ হিসেবে এটিই তার প্রথম দায়িত্ব।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ক্লপ বলেন, ‘গত কয়েক দিনে আমার জীবনের অনেক স্মৃতি মনে পড়েছে। আমি জানি আমি কোথা থেকে এসেছি। জার্মানির জাতীয় দলের কোচ হওয়া কত বড় দায়িত্ব, সেটাও আমি জানি। অনেক বছর ধরেই আমি ভাবতেই পারিনি, একদিন এই দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ আসবে।’
২০২৫ সালের শুরুতে ক্লপ রেড বুলের গ্লোবাল হেড অব ফুটবল হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি কোচিংয়ের বাইরে থেকে ফুটবল কার্যক্রমের তদারকি, পরিকল্পনা এবং কৌশলগত নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর এবার আবারও মাঠের ডাগআউটে ফিরলেন এই জার্মান কোচ।
নতুন অধ্যায় শুরুর আগে সংবাদমাধ্যমের কাছেও সহযোগিতা চেয়েছেন ক্লপ। তার বিশ্বাস, ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হলে দল আরও ভালো করতে পারবে।
তিনি বলেন, ‘এই যাত্রায় আপনাদেরও আমাদের প্রয়োজন হবে। আমি শুধু চাই, আপনারা এই প্রক্রিয়াকে সফল করার কথা ভেবে আমাদের পাশে থাকুন। অযথা বাধা সৃষ্টি করবেন না।’
এরপর নিজের অবস্থান আরও পরিষ্কার করে কড়া বার্তা দেন তিনি। জানিয়ে দেন, দায়িত্ব ছাড়তে তার কোনো দ্বিধা নেই, যদি পরিস্থিতি ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে যায়।
ক্লপ বলেন, ‘যদি কোনো সময় আপনাদের সবার মনে হয় আমার চলে যাওয়া উচিত, তাহলে আমি কোনো ক্ষতিপূরণ ছাড়াই চলে যাব। কিন্তু যদি আপনারা আমার পরিবারের পেছনে লাগেন এবং তাদের শান্তিতে থাকতে না দেন, তাহলে আমি চলে যাব। যদি মনে করেন আমি কোনো কাজের নই, তাহলে সরাসরি আমাকে বলুন, আমি সরে দাঁড়াব। আমি নিজের জন্য এই কাজ করছি না, আপনাদের জন্য করছি। জুলিয়ান (নাগেলসমান) এবং (টমাস) টুখেলের সঙ্গে কী হয়েছে, আমি দেখেছি। আমি জানি, অন্য কিছু দেশে পরিস্থিতি আরও খারাপ।’
জার্মানির জাতীয় দলের দায়িত্ব পাওয়ার আগে ক্লপ সফল কোচিং ক্যারিয়ার গড়েছেন মাইনৎস, বরুসিয়া ডর্টমুন্ড এবং লিভারপুলে।
মাইনৎসকে তিনি প্রথমবারের মতো জার্মানির শীর্ষ লিগে তুলেছিলেন। এরপর বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের দায়িত্বে থেকে বায়ার্ন মিউনিখের দীর্ঘদিনের আধিপত্য ভেঙে জেতেন দুটি বুন্দেসলিগা এবং একটি জার্মান কাপ। পরে লিভারপুলের দায়িত্ব নিয়ে ক্লাবটিকে আবারও ইউরোপের অন্যতম সেরা দলে পরিণত করেন। তার অধীনে লিভারপুল জেতে একটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, একটি ক্লাব বিশ্বকাপ, একটি উয়েফা সুপার কাপ, ৩০ বছর পর একটি প্রিমিয়ার লিগ, একটি এফএ কাপ, দুটি লিগ কাপ এবং একটি কমিউনিটি শিল্ড।