২৩ জুলাই ২০২৬, ১৫:৪২

ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে মেসিসহ শীর্ষ পাঁচে রয়েছেন যারা

লিওনেল মেসি   © সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরকে ঘিরে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে সম্ভাব্য দাবিদারদের অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কা ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের সম্ভাব্য শীর্ষ পাঁচ দাবিদারের তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় রয়েছেন রদ্রি, লামিন ইয়ামাল, লিওনেল মেসি, হ্যারি কেইন ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপে দুর্দান্তভাবে ফিরে এসে তিনি স্পেনের মাঝমাঠে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দলকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছেন তিনি। বিশ্বকাপে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ক্লাব মৌসুমে ধারাবাহিক নৈপুণ্যের কারণে রদ্রিকেই সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন স্পেন ও বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই জায়গাতেই দারুণ মৌসুম কাটিয়েছেন তিনি। বার্সেলোনার হয়ে ২৪ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি জিতেছেন লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ। বিশ্বকাপেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কার্যকর পারফরম্যান্স করে স্পেনের শিরোপা জয়ে বড় অবদান রাখেন ইয়ামাল। বয়সের তুলনায় তার পরিপক্বতা ও ধারাবাহিকতা তাকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদারে পরিণত করেছে।

তৃতীয় স্থানে রাখা হয়েছে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। বিশ্বকাপে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে দলকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হারের কারণে মেসির সম্ভাব্য নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথ কিছুটা কঠিন হয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চতুর্থ স্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুমে ৩৬ গোল করে দলকে লিগ ও কাপ—দুই শিরোপা জিততে সহায়তা করেছেন তিনি। বিশ্বকাপেও ছয় গোল করে নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন। ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান ও ক্লাব সাফল্যের কারণে কেইনও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

শীর্ষ পাঁচের শেষ নামটি কিলিয়ান এমবাপ্পের। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগে ধারাবাহিক গোল করে আলোচনায় ছিলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়ে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। তবে দলীয় সাফল্যের দিক থেকে অন্য কয়েকজন প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে থাকায় ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে তার পথ সহজ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। বিশ্বকাপ-পরবর্তী পারফরম্যান্সের কারণে এবারের ব্যালন ডি’অরের লড়াই সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রতিযোগিতাগুলোর একটি হবে বলে ধারণা ফুটবল বিশ্লেষকদের।