২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগ মুহূর্তে এফবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চিকি তাপিয়া   © সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার ঠিক আগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)—এমন খবর আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের দাবি, এএফএর ৩০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা) মূল্যের স্পনসরশিপ চুক্তি নিয়ে অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ। তবে তাপিয়াকে আটক করা হয়েছে বা আদালতে সাক্ষ্য দিতে বলা হয়েছে—এমন দাবি নাকচ করেছে এএফএ।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এবং আর্জেন্টিনার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপ শেষে আর্জেন্টিনা দল চার্টার্ড বিমানে বুয়েনস এইরেসে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কর্মকর্তারা এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মোবাইল ফোন জব্দ করার দাবিও ছড়িয়ে পড়ে।

ইনফোবায়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাপিয়া দলের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন। কিছু প্রতিবেদনে তাকে আটক করার দাবি করা হলেও এএফএ সেই তথ্য অস্বীকার করেছে।

এক বিবৃতিতে এএফএ জানায়, তাদের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া কিংবা কোষাধ্যক্ষ পাবলো তোভিগিনো—কাউকেই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আদালত সাক্ষ্য দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি। তবে সংস্থাটি স্বীকার করেছে, এএফএর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক তৃতীয় পক্ষকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে। ওই ব্যক্তি এএফএর কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেন।

ইনফোবায়ের দাবি, এএফএর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বাণিজ্যিক চুক্তি তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ। অর্থপাচারের একটি বৃহত্তর তদন্তের অংশ হিসেবে গত ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনার ফুটবল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানোর পর এই তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে।

বিমানবন্দরের এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানানো হয়েছে, আর্জেন্টিনা দল বিমানে ওঠার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় একটি বাসের ভেতরে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে ফেডারেল এজেন্টরা ক্লদিও তাপিয়া ও পাবলো তোভিগিনোকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এএফএ অবশ্য তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কাকে তলব করা হয়েছে, তার পরিচয় প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে সরাসরি তাপিয়া বা তোভিগিনোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, এএফএর অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছিল কি না এবং সেই প্রক্রিয়ায় অর্থপাচার বা আর্থিক জালিয়াতির কোনো চেষ্টা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা।

প্রাথমিক ব্যাংক নথির তথ্য অনুযায়ী, কয়েক মিলিয়ন মার্কিন ডলার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এসব অর্থের একটি অংশ কয়েক দিনের জন্য নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে রাখা হয়েছিল। পরে সেগুলো অন্য হিসাবগুলোতে স্থানান্তর করা হয়। এই লেনদেনের ধরনই এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু।