মেসির ব্যালন ডি’অর পাওয়া নিয়ে যা জানাল কর্তৃপক্ষ
ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর স্প্যানিশ তারকা মিডফিল্ডার রদ্রির গোল্ডেন বল জেতা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে এখনও সমালোচনা থামেনি। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকের মতে, টুর্নামেন্টজুড়ে অনন্য পারফর্ম করা লিওনেল মেসিই ছিলেন বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়। তবে ফাইনাল পর্বের সমাপ্তির পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—মেসি কি তবে আরও একবার ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে থাকছেন?
এমন আলোচনার মধ্যেই মর্যাদাপূর্ণ এই আয়োজনের সত্ত্বাধিকারী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ম্যাগাজিন সোমবার তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। আয়োজকরা মনে করিয়ে দিয়েছে যে, ব্যালন ডি’অর জিততে হলে কোনো ফুটবলারকে ইউরোপের লিগে খেলতেই হবে—এমন কোনো নিয়ম বা বাধ্যবাধকতা এখন আর নেই। এমনকি বিশ্বকাপ জয় করার কারণেই স্পেন জাতীয় দলের কোনো খেলোয়াড়কে এই পুরস্কারের জন্য বেছে নিতে হবে—এমন ধারণা থেকেও সরে এসেছে তারা। নিজেদের এই বক্তব্যের সঙ্গে তারা বিশেষ ছবি হিসেবে ব্যবহার করেছে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের ছবিই।
এদিকে ব্যালন ডি’অরের এই লড়াইয়ে স্পেনের রদ্রি ছাড়া তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল এবং পাউ কুবার্সিও আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন। এছাড়া উত্তর আমেরিকার এই বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো অন্যান্য তারকাদের মধ্যে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও হ্যারি কেইনও শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে তালিকায় আছেন।
ফ্রান্স ফুটবলের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে অতীত বিশ্বকাপের ইতিহাস। ১৯৬৬ সালে ববি চার্লটন (ইংল্যান্ড), ১৯৮২ সালে পাওলো রসি (ইতালি) এবং ১৯৯০ সালে লোথার ম্যাথিউস (জার্মানি) বিশ্বজয়ের পাশাপাশি একই বছর ব্যালন ডি’অরও জিতেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে অ-ইউরোপীয় খেলোয়াড়দের জন্য পুরস্কারটি উন্মুক্ত হওয়ার পর জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স, ১৯৯৮), রোনালদো (ব্রাজিল, ২০০২) এবং ফাবিও কানাভারো (ইতালি, ২০০৬) এই কীর্তি গড়েন।
তবে বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য না হয়েও ব্যালন ডি’অর জেতার এই প্রথা প্রথম ভেঙেছিলেন মেসি নিজেই, ২০১০ সালে। সেবার বার্সেলোনায় নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে স্প্যানিশ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সতীর্থ আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও চাভিকে পেছনে ফেলেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির মানুয়েল নয়্যার ও মেসিকে পেছনে ফেলে পুরস্কারটি জেতেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আবার ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে ফাইনালে হারলেও ফরাসি তারকা আঁতোয়ান গ্রিজমানকে পেছনে ফেলে একই অর্জন এনেছিলেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদরিচ।
সর্বশেষ ২০২৩ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর দলগত ও ব্যক্তিগত—দুই মুকুটই একসঙ্গে জয় করেছিলেন মেসি। এবার স্প্যানিশ তারকাদের বিপক্ষে লড়াই করে আবারও তিনি সেই কীর্তি গড়তে পারবেন কি না, তা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা-কল্পনা।
প্রতিবেদনের শেষে ফ্রান্স ফুটবল স্পষ্ট জানিয়েছে, বিশ্বকাপ জয় ব্যালন ডি’অর জয়ের পথ সহজ করলেও এটি পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। এই ট্রফি জিততে হলে শুধু বিশ্বকাপ নয়, পুরো মৌসুমজুড়ে সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য জমকালো অনুষ্ঠানেই মিলবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর।