২১ জুলাই ২০২৬, ১১:৩০

২০৩০ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে পারে ব্রাজিলও!

ব্রাজিল ফুটবল দল   © সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপে হতাশাজনক বিদায়ের পর নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে ব্রাজিল। তবে ২০৩০ বিশ্বকাপকে ঘিরে সেলেসাওদের জন্য এসেছে একটি স্বস্তির খবরও। ফিফা যদি ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তাহলে দক্ষিণ আমেরিকার প্রায় সব দেশই সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ব্রাজিলেরও বাছাইপর্ব ছাড়াই বিশ্বকাপ খেলতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে রাউন্ড অব সিক্সটিন থেকেই বিদায় নেয় ব্রাজিল। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপে শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়েন নেইমার, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মাতেউস কুনিয়াসহ দলের ফুটবলাররা। ফলে ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

এবারের বিশ্বকাপ শেষে ২০৩০ আসর নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেছে ফিফা। স্পেন, মরক্কো ও পর্তুগাল হবে মূল আয়োজক। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতেও একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই ছয় দেশই স্বাগতিক হিসেবে বিশ্বকাপে খেলবে।

এরই মধ্যে কনমেবল সভাপতি আলেহান্দ্রো ডোমিঙ্গেজ জানিয়েছেন, ২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৪টি দল অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যদি সেটি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে দল সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে আগেই নিশ্চিত হওয়ায় ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলাসহ কনমেবলের প্রায় সব সদস্য দেশের বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এতে প্রচলিত বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক গুরুত্ব কমে যেতে পারে। সেই কারণেই কনমেবল নতুন একটি প্রতিযোগিতা চালুর পরিকল্পনা করছে। প্রস্তাবিত টুর্নামেন্টটি হবে অনেকটা উয়েফা নেশনস লিগের আদলে। এর মাধ্যমে কোপা আমেরিকার মধ্যবর্তী সময়েও জাতীয় দলগুলো নিয়মিত শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।

এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না এলেও প্যারাগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রবার্ট হ্যারিসন সম্ভাব্য পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা, আর্জেন্টিনা এবং উরুগুয়ে ইতোমধ্যেই ২০৩০ বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছি। বাছাইপর্বে বাকি সাড়ে তিনটি টিকিটের লড়াই হবে। পাশাপাশি বাছাইপর্বের ফলাফলের ভিত্তিতে উয়েফার সঙ্গে যৌথভাবে একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এটি অনেকটা নেশনস লিগের মতো হবে, যেখানে আমরা ইউরোপের দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে পারব।’

বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে মাঠে ফেরার সূচিও চূড়ান্ত হয়ে গেছে ব্রাজিলের। আগামী সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগোরা। দুই দলের প্রথম প্রীতি ম্যাচ হবে ২৫ সেপ্টেম্বর টাউনসভিলে এবং দ্বিতীয় ম্যাচ ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচ টনি পপোভিচ এই ম্যাচ দুটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্রাজিল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দেশ। অস্ট্রেলিয়ায় তাদের বিপক্ষে খেলতে আমরা মুখিয়ে আছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে নিজেদের আরও শক্তিশালী করে তুলতে নিয়মিত শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে চাই। তাই এমন ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত।’

পরিসংখ্যানও ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। ১৯৮৮ সালে প্রথম দেখার পর দুই দল এখন পর্যন্ত ১১ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাজিল জিতেছে ৮টি ম্যাচ, অস্ট্রেলিয়া জিতেছে মাত্র একটি এবং দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

বিশ্বকাপে ব্যর্থতার হতাশা পেছনে ফেলে এখন নতুন লক্ষ্য ২০৩০। শিরোপার ২৮ বছরের অপেক্ষা ঘোচানোর মিশনে আগামী চার বছরই হবে ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির সময়।