বিশ্বকাপে জায়গা আগেই নিশ্চিত, তবু কেন বাছাইপর্ব খেলতে হবে আর্জেন্টিনাকে
২০৩০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অংশগ্রহণ আগেই নিশ্চিত হয়ে গেছে। তবু আগামী বছর থেকে দলটিকে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলতে হতে পারে। স্বাগতিক হওয়ার পরও কেন বাছাইপর্বে নামতে হবে বর্তমান বিশ্বকাপ রানার্সআপদের—এই প্রশ্নই এখন ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনায়।
২০৩০ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে স্পেন, মরক্কো ও পর্তুগাল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদ্যাপনের অংশ হিসেবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতেও একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই ছয় দেশের মধ্যে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে স্বাগতিক মর্যাদায় সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে।
তবে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত হলেও প্রতিযোগিতামূলক সূচি থেকে আর্জেন্টিনাকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না। বরং দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে তাদেরও রাখার পরিকল্পনা করছে কনমেবল।
এর কারণ, ২০৩০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৪ করা হচ্ছে। কনমেবল সভাপতি আলেহান্দ্রো ডোমিঙ্গেজ আগেই এ ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে দক্ষিণ আমেরিকার জন্য বরাদ্দ টিকিটও বাড়তে পারে। আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে আগেই নিশ্চিত হওয়ায় বাকি দেশগুলোর জন্য বাছাইপর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেকটাই কমে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে প্রচলিত বাছাইপর্ব তার প্রতিযোগিতামূলক গুরুত্ব হারাতে পারে।
এ কারণেই কনমেবল নতুন একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। প্রস্তাবিত এই প্রতিযোগিতা অনেকটা উয়েফা নেশনস লিগের আদলে হতে পারে। উদ্দেশ্য হলো, কোপা আমেরিকা ২০২৮-এর পাশাপাশি বিশ্বকাপের মধ্যবর্তী সময়েও জাতীয় দলগুলোকে শক্তিশালী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়া।
যদিও এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবু প্যারাগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রবার্ট হ্যারিসন সম্ভাব্য পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমরা, আর্জেন্টিনা এবং উরুগুয়ে ইতোমধ্যেই ২০৩০ বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছি। বাছাইপর্বে বাকি সাড়ে তিনটি টিকিটের লড়াই হবে। পাশাপাশি বাছাইপর্বের ফলাফলের ভিত্তিতে উয়েফার সঙ্গে যৌথভাবে একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এটি অনেকটা নেশনস লিগের মতো হবে, যেখানে আমরা ইউরোপের দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে পারব।'
এদিকে ২০৩০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সূচি এখনও প্রকাশ করেনি ফিফা। তবে বিশ্বকাপের পরবর্তী ফিফা উইন্ডোতে আর্জেন্টিনা দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। এই উইন্ডো অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। যদিও ম্যাচ দুটির প্রতিপক্ষ, ভেন্যু ও নির্দিষ্ট সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।