দেশে ফেরার পর হাজারো সমর্থকের ভালোবাসায় সিক্ত আর্জেন্টিনা
২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে না পারলেও দেশে ফিরে বীরের সম্মান পেল আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। স্পেনের কাছে ফাইনালে হারের পর বুয়েনস এইরেসে ফিরতেই হাজারো সমর্থক পতাকা, গান আর করতালিতে বিশ্বকাপ রানার্সআপদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দর থেকে জাতীয় দলের অনুশীলন কেন্দ্র পর্যন্ত ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়। ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা পর নিউইয়র্ক থেকে বুয়েনস এইরেসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে দলটি। সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তারা বুয়েনস এইরেসের মিনিস্ত্রো পিস্তারিনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এজেইজা) পৌঁছায়।
তবে পুরো দল একই বিমানে দেশে ফেরেনি। ১০ জন ফুটবলার সরাসরি নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যান। কেউ যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যান, কারণ তারা সেখানে ক্লাব ফুটবল খেলেন। আবার কেউ ইউরোপে নিজ নিজ ক্লাবে যোগ দিতে বা কয়েক দিনের ছুটি কাটাতে সরাসরি সেখানে চলে যান। বাকি খেলোয়াড়েরা দেশে ফেরেন।
বিমানবন্দরে নামার পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আর্জেন্টিনা দলকে স্বাগত জানানো হয়। দেশটির ঐতিহ্যবাহী রেজিমেন্ট অব গ্রেনেডিয়ার্স ব্যান্ড জনপ্রিয় গান 'মুচাচোস' বাজিয়ে খেলোয়াড়দের অভ্যর্থনা জানায়। এরপর বিমানবন্দরের বাইরে এবং জাতীয় দলের অনুশীলন কেন্দ্রের আশপাশে জড়ো হওয়া হাজারো সমর্থক করতালি, পতাকা ও স্লোগানে দলকে স্বাগত জানান।
কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে খোলা ছাদযুক্ত একটি বাসে করে আর্জেন্টিনা দলকে লিওনেল আন্দ্রেস মেসি ট্রেনিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। পথে বাস থেকে খেলোয়াড়েরা সমর্থকদের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। সমর্থকেরাও পতাকা উড়িয়ে, গান গেয়ে এবং স্লোগান দিয়ে দলের প্রতি নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়নি, তবু হাজার হাজার মানুষ জাতীয় দলের অনুশীলন কেন্দ্রের আশপাশে জড়ো হন। বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে না পারলেও দেশকে গর্বের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করায় তারা খেলোয়াড়দের উষ্ণ অভিনন্দন জানান।
সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘প্রতিটি ফুটবলার মাঠের ভেতরে সমর্থকদের সেই ভালোবাসা অনুভব করেছে। প্রতিনিধি দলের প্রতিটি সদস্য এমন একটি জাতির প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্বিত, যারা কখনো বিশ্বাস হারায়নি এবং সবসময় দলের পাশে থেকেছে। শেষ পর্যন্ত আমরা টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারিনি। কিন্তু এই যাত্রা প্রমাণ করেছে, দল এবং সমর্থকদের সম্পর্ক যেকোনো ফলাফলের চেয়েও অনেক বড়।’
যে ১৬ জন ফুটবলার দেশে ফিরেছেন তারা হলেন— এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, মার্কোস সেনেসি, ফাকুন্দো মেদিনা, নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, গনসালো মন্তিয়েল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, ভ্যালেন্তিন বার্কো, এক্সেকিয়েল পালাসিওস, জিওভানি লো সেলসো, নিকো গনসালেস, থিয়াগো আলমাদা, জুলিয়ানো সিমেওনে এবং হোসে মানুয়েল লোপেস।
অন্যদিকে ১০ জন ফুটবলার আর্জেন্টিনায় ফেরেননি। কেউ যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে গেছেন, কারণ তারা সেখানে খেলেন। আবার কেউ সরাসরি ইউরোপে নিজ নিজ ক্লাবের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তারা হলেন— লিওনেল মেসি, রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, হেরোনিমো রুলি, নিকোলাস পাস, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, নাহুয়েল মোলিনা এবং হুয়ান মুসো।