২০ জুলাই ২০২৬, ১৯:৫৬

মাঠে সহিংসতা ছড়ানোর দায়ে যে শাস্তি পাচ্ছেন পারেদেস 

ফাইনালে হেরে স্পেনের খেলোয়াড়কে মারতে উদ্যত হয়েছেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস   © সংগৃহীত

বিশ্বজয়ের মুকুট হারানোর পর এবার আরও বড় বিপদের মুখে পড়তে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেন ও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ও উগ্র মারামারির ঘটনায় পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে আলবিসেলেস্তেদের মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসসহ একাধিক তারকা খেলোয়াড়কে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (AFA) বড় অঙ্কের প্রাতিষ্ঠানিক জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে পরাজয়ের পর রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পরপরই এই রণক্ষেত্রের সূত্রপাত হয়। ম্যাচ শেষ হতেই আর্জেন্টিনার রাইট-ব্যাক নাউয়েল মোলিনা স্পেনের অধিনায়ক রদ্রির সাথে বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কিতে লিপ্ত হন, যা মুহূর্তের মধ্যে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। 

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস; তিনি স্পেনের গাভিকে মাটিতে টেনে ফেলে দেন এবং এরিক গার্সিয়াকে আঘাত করায় ম্যাচ শেষ হওয়ার পর তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। এছাড়া ভিডিও ফুটেজে আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ ড্যানিয়েল আয়ালার বিরুদ্ধে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার দানি ওলমোকে আঘাত করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোড অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালীন লাল কার্ডের কারণে শাস্তি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হলেও, ম্যাচ পরবর্তী সহিংসতার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।  ম্যাচ চলাকালীন দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়া এনসো ফের্নান্দেস এবং ম্যাচ শেষে লাল কার্ড পাওয়া লিয়ান্দ্রো পারেদেস আর্জেন্টিনার পরবর্তী অফিশিয়াল ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন না।

এছাড়াও ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, মাঠ বা মাঠের বাইরে ঘুষি, লাথি বা কনুই দিয়ে আঘাত করার মতো সহিংস আচরণের জন্য ন্যূনতম ৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ফলে পারেদেস এবং মাঠের রেফারি এড়াতে পারলেও ভিডিও ফুটেজে দোষী সাব্যস্ত হওয়া নাউয়েল মোলিনার ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসতে যাচ্ছে। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে ফিফা এই শাস্তি ৩ ম্যাচের চেয়েও অনেক বাড়াতে পারে।

আর্জেন্টােইন ফুটবল এসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা 

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ম্যাচে যদি একটি দলের ৫ বা তার বেশি খেলোয়াড় ব্যক্তিগত শাস্তির (হলুদ বা লাল কার্ড) আওতায় আসেন, তবে সেই দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলাভঙ্গের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ১২০ মিনিটের চরম উত্তেজনাকর ম্যাচ এবং ম্যাচ পরবর্তী কার্ডের সংখ্যা মিলিয়ে আর্জেন্টিনা অনায়াসেই এই শাস্তির আওতায় পড়েছে, যার ফলে এএফএ-কে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা গুনতে হবে।


আর্জেন্টিনার জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারানোর পর তাদের রাজনৈতিক আচরণ। সেমিফাইনাল জয়ের পর আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় মাঠেই ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’ (ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন। ব্রিটিশ সরকারের (ডাউনিং স্ট্রিট) আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তিতে ফিফা অলরেডি এই বিষয়ে একটি তদন্ত চালাচ্ছে।

এর আগে ২০১৪ সালেও একই ব্যানার প্রদর্শনের জন্য ফিফা আর্জেন্টিনাকে ২০,০০০ পাউন্ড জরিমানা করেছিল। তাছাড়া, ইউরো ২০২৪ জয়ের পর জিব্রালটার নিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ায় স্পেনের রদ্রি ও আলভারো মোরাতাকে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ফিফা ও উয়েফা কঠোর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।

সেমিফাইনালের রাজনৈতিক বিতর্ক এবং ফাইনাল শেষে মাঠের নজিরবিহীন মারামারি—এই দুই অপরাধ মিলে আধুনিক বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম কঠিন এবং বৃহত্তম সম্মিলিত শাস্তির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে আর্জেন্টিনাকে।