যে ভুলে বিশ্বকাপ হাতছাড়া হলো মেসিদের
বিশ্বজয়ের হ্যাটট্রিক আর ব্যাক-টু-ব্যাক বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়া হলো না আর্জেন্টিনার। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের অপ্রতিরোধ্য তিকিতাকা ফুটবলের সামনে ট্রফি খোয়াতে হলো আলবিসেলেস্তেদের। নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন।
পুরো ম্যাচে স্পেনের দাপুটে ফুটবলের বিপরীতে আর্জেন্টিনা অনেকটা বোতলবন্দী হয়ে থাকলেও ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যেতে পেরেছিল। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় হাফের শুরুতেই ডিফেন্সের এক মুহূর্তের অমনোযোগিতা ও মারাত্মক ভুলেই স্বপ্নভঙ্গ হয় লিওনেল স্কালোনির দলের।
ম্যাচের পেন্ডুলাম যখন যেকোনো দিকে হেলে পড়তে পারত, ঠিক তখনই বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা। মিডফিল্ডার এনসো ফের্নান্দেস দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। একজন কম নিয়ে খেলায় স্বাভাবিকভাবেই রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নিতে বাধ্য হয় আর্জেন্টিনা, যা স্পেনের আক্রমণভাগকে আরও চেপে বসার সুযোগ করে দেয়।
১০৬ মিনিটে স্পেনের করা জয়সূচক গোলটির সময় আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের পজিশনিংগত ভুল ছিল স্পষ্ট। পেদ্রো পোরোর কাছ থেকে বল পেয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে ক্রস বাড়ান তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল। সেই ক্রস যখন নিকো উইলিয়ামস হেড দিয়ে বক্সের ভেতর নামাচ্ছিলেন, তখন আর্জেন্টিনার সেন্টার ব্যাকরা বল ক্লিয়ার না করে গোল বাঁচানোর তাড়ায় গোললাইনের বড্ড কাছাকাছি (ছয় গজ বক্সের ভেতরে) নেমে যান। ফলে বক্সের ভেতর স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডদের জন্য অনেকটা ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়।
নিকো উইলিয়ামস যখন বক্সের ফাঁকা জায়গায় বলটি হেড করে পাস দেন, তখন সেখানে সম্পূর্ণ অরক্ষিত বা আনমার্কড অবস্থায় ছিলেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার তো বটেই, মাঝমাঠের কোনো খেলোয়াড়ও তোরেসের রান ট্র্যাক করতে পারেননি। ফলে নিখুঁত পজিশনে বল পেয়ে বাঁ পায়ের দর্শনীয় শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন তোরেস। যেখানে আর্জেন্টিনার বাজপাখি খ্যাত গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসের চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।
অতিরিক্ত সময়ের বাকি অংশে ১০ জন নিয়ে আর এই গোল শোধ করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জিয়ানি ইনফান্তিনোর উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক এই ফাইনালে স্পেনের এই কৌশলী ফুটবলের কাছেই শেষ পর্যন্ত পরাস্ত হতে হলো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।