আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল নিয়ে সুপারকম্পিউটারের নতুন ভবিষ্যদ্বাণী
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালকে সামনে রেখে নতুন পূর্বাভাস দিয়েছে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটার। ২৫ হাজারবার ম্যাচের সম্ভাব্য ফল বিশ্লেষণ করে তাদের মডেল বলছে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শিরোপার দৌড়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছে স্পেন। তবে ব্যবধান এতটাই কম যে শেষ পর্যন্ত যেকোনো দলই চ্যাম্পিয়ন হতে পারে।
অপটার সুপারকম্পিউটারের হিসাবে, বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনায় এগিয়ে স্পেন। লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৫৯.৬ শতাংশ, আর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা ৪০.৪ শতাংশ।
২৫ হাজার সিমুলেশনের মধ্যে ৪৫ শতাংশ ক্ষেত্রে নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই স্পেনকে জয়ী দেখিয়েছে সুপারকম্পিউটার। ২৯ শতাংশ ক্ষেত্রে ম্যাচ ড্র হয়েছে, আর ২৬ শতাংশ ক্ষেত্রে ৯০ মিনিটেই জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা।
অপটার মতে, স্পেনের সমষ্টিগত ফুটবল এবং দুর্ভেদ্য রক্ষণই তাদের এগিয়ে রাখছে। এ বিষয়ে অপটা অ্যানালিস্ট তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, 'আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সব ম্যাচ জিতলেও তারা যে দুর্বলতা দেখিয়েছে, সেটিও স্পষ্ট। তাই অনেকের মতো অপটার সুপারকম্পিউটারও স্পেনকে এগিয়ে রাখছে। এর প্রধান কারণ, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার দক্ষতা। এই বিশ্বকাপে স্পেন প্রতি ম্যাচে মাত্র ০.৩১ এক্সপেক্টেড গোল (xG) প্রতিপক্ষকে দিয়েছে। এটি শুধু এই বিশ্বকাপেই নয়, ১৯৬৬ সালের পর থেকে যেকোনো বিশ্বকাপে যৌথভাবে সবচেয়ে কম। এর আগে ১৯৯০ বিশ্বকাপে উরুগুয়েও একই রেকর্ড গড়েছিল।'
তবে এই পূর্বাভাস আর্জেন্টিনার সমর্থকদের হতাশ করার মতো নয়। লিওনেল মেসির দল এবার নিজেদের সপ্তম বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নামছে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সাতটি ম্যাচই জিতেছে তারা। কাতার ২০২২-এর শিরোপা ধরে রাখতে পারলে ইতালি ও ব্রাজিলের পর টানা দুটি বিশ্বকাপ জেতা ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দল হবে আর্জেন্টিনা।
অন্যদিকে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন। টানা ৩৭টি অফিসিয়াল ম্যাচে অপরাজিত থাকা দলটি পুরো টুর্নামেন্টেই দুর্দান্ত রক্ষণভাগের পরিচয় দিয়েছে। প্রতি ম্যাচে মাত্র ০.৩১ এক্সপেক্টেড গোল (xG) প্রতিপক্ষকে সুযোগ দিয়েছে তারা। গোলরক্ষক উনাই সিমোন ছয়টি ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছেন। এসব পরিসংখ্যানই স্পেনকে এগিয়ে রাখার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে অপটা।
ফাইনালের আরেকটি বড় আকর্ষণ হতে পারে লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের মুখোমুখি লড়াই। অপটা অ্যানালিস্টের মতে, এটি ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে নেতৃত্ব বদলের প্রতীক হতে পারে। যদি দুজনই শুরুর একাদশে থাকেন, তাহলে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথমবার প্রতিপক্ষ দুই দলের শুরুর একাদশে থাকা দুই খেলোয়াড়ের বয়সের পার্থক্য হবে ২০ বছরের বেশি। মেসির বয়স ৩৯ বছর, আর ইয়ামালের ১৯।
এ বিষয়ে অপটা অ্যানালিস্ট লিখেছে, 'লিওনেল মেসি বনাম লামিনে ইয়ামাল এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় গল্প হতে পারে। যদি দুজনই শুরু থেকে খেলেন, তাহলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার দুই প্রতিপক্ষ দলের শুরুর একাদশে থাকা খেলোয়াড়দের বয়সের পার্থক্য হবে ২০ বছরের বেশি। মেসি অতীত, দুজনই বর্তমান, আর ইয়ামাল ভবিষ্যৎ।'
তবে অপটার সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস সব সময় যে বাস্তবে মিলে যায়, এমন নয়। বিশ্বকাপ চলাকালেই তারা একাধিকবার নিজেদের পূর্বাভাস পরিবর্তন করেছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফ্রান্সকে সবচেয়ে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখানো হয়েছিল। তখন সম্ভাব্য সেমিফাইনালিস্টদের মধ্যে আর্জেন্টিনার সম্ভাবনাই ছিল সবচেয়ে কম। কিন্তু স্কালোনির দলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সেই হিসাব বদলে দিয়েছে। তাই সুপারকম্পিউটার স্পেনকে এগিয়ে রাখলেও, বিশ্বকাপের শিরোপা কার হাতে উঠবে, তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই।