ফাইনালে মেসিকে নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী এমবাপ্পের
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়লেও সেটিকে বড় করে দেখছেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে। বরং আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালের আগে লিওনেল মেসিকে নিয়ে বড় এক ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন ফরাসি অধিনায়ক। তার বিশ্বাস, বিশ্বকাপের ফাইনালেও গোল করবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
ফ্রান্সের হয়ে ব্যক্তিগতভাবে দারুণ একটি বিশ্বকাপ কাটিয়েছেন এমবাপ্পে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬-৪ ব্যবধানে হারের ম্যাচে জোড়া গোল করেন তিনি। এই দুই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ২১ গোল করা লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে ২২ গোল নিয়ে শীর্ষে উঠে যান তিনি। তবে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফাইনালের আগে এই রেকর্ড কতক্ষণ তার দখলে থাকবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের এই অর্জনকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চাননি এমবাপ্পে। তার মতে, ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার চেয়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে পারলে তিনি বেশি খুশি হতেন।
মেসিকে নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘লিও (মেসি) তো সব সময়ই গোল করে। আগামীকালও সে অবশ্যই গোল করবে।’
বিশ্বকাপ চলাকালেও এমবাপ্পে একাধিকবার বলেছিলেন, সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াই নিয়ে তিনি খুব একটা ভাবেন না। কারণ, তার বিশ্বাস মেসি নিয়মিতই গোল করেন।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার বিষয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘আমি শুধু চেষ্টা করি প্রতিটি ম্যাচে আমার দলকে গোল করতে সাহায্য করতে। অবশ্যই বিশ্বকাপে এতগুলো গোল করতে পারা একজন খেলোয়াড় হিসেবে আপনাকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যায়। কিন্তু আমি যদি ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা না-ও হতাম, তবু আগামীকালের (ফাইনাল) ম্যাচটা খেলতে পারলে সেটাই বেশি চাইতাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পর এই অর্জনটা অবশ্যই আমার জন্য একটি সুন্দর স্মৃতি হবে। তখন ভাবতে ভালো লাগবে যে আমি ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের একজন ছিলাম। কিন্তু এই মুহূর্তে এটা আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমার্ধে চার গোল হজমের পর সমালোচনার মুখে পড়ে ফ্রান্স। এ প্রসঙ্গে এমবাপ্পে বলেন, ‘প্রথমার্ধের পর কেউ যদি বলে আমরা সমর্থকদের হতাশ করেছি কিংবা জার্সির মর্যাদা রাখতে পারিনি, তাহলে আমি বুঝতে পারি কেন তারা এমন বলছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি বলব, আমরা মানুষ। এমনটা হওয়ার সুযোগ আমাদের দেওয়া উচিত ছিল না। আমরা পুরোপুরি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। তবে সেই ধাক্কাই শেষ পর্যন্ত আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে।’
দ্বিতীয়ার্ধে দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ভালোভাবেই জেগে উঠেছিলাম। আমরা আবারও উচ্চমানের ফুটবল খেলেছি। আমাদের মধ্যে আগের চেয়ে বেশি আবেগ ও লড়াই করার মানসিকতা ছিল। আমরা দ্বিতীয়ার্ধ জিতেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা জিততে পারিনি।’
ম্যাচ শেষে বিদায়ী কোচ দিদিয়ের দেশঁর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এমবাপ্পে। তিনি বলেন, ‘আমরা তার জন্য বিশেষ কিছু করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স দেখে মনে হতে পারে আমরা তাকে হতাশ করেছি। কিন্তু আমরা কখনোই এমনটা চাইনি। তিনি আমাদের জন্য যা করেছেন, তার সবকিছুর জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। এই একটি ম্যাচ তার কিংবদন্তিকে কোনোভাবেই ম্লান করতে পারবে না।’