১৮ জুলাই ২০২৬, ২১:০৮

আর্জেন্টিনা ১-৩ স্পেন

আর্জেন্টিনা ও স্পেন  © এআই

বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফুটবলের দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও স্পেন। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বর্তমান অবস্থান সবকিছু মিলিয়ে ম্যাচটি ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। তবে ফাইনালের আগে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনার জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। ২০০০ সালের পর দুই দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত চারটি ম্যাচের তিনটিতেই জয় পেয়েছে স্পেন। সাম্প্রতিক ম্যাচ চারটির মুখোমুখি লড়াইয়ের হিসাব বলছে- আর্জেন্টিনা ১-৩ স্পেন।

দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয় ২০১৮ সালে। সেবার মাদ্রিদের ওয়ান্ডা মেট্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনাকে ৬-১ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় স্পেন। এটি এখন পর্যন্ত দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় জয় এবং আর্জেন্টিনার অন্যতম বড় পরাজয়গুলোর একটি। লিওনেল মেসি সে ম্যাচে ছিলেন না। স্পেনের হয়ে ইসকো হ্যাটট্রিক করেন, আর দিয়েগো কস্তা, থিয়াগো আলকান্তারা ও ইয়াগো আসপাস একটি করে গোল করেন।

২০০০ সালের পর প্রথমবার দুই দলের দেখা হয় ২০০৬ সালের ১১ অক্টোবর। মুরসিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় স্পেন। জয়ের তিন বছর পর ২০০৯ সালের নভেম্বরে মাদ্রিদেও একই স্কোরলাইনে জয় পায় তারা।

তবে ২০১০ সালে স্পেনের টানা দুই জয়ের জবাব দেয় আর্জেন্টিনা। বুয়েনস আইরেসে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে সদ্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে শক্ত বার্তা দেয় আলবিসেলেস্তেরা। গঞ্জালো হিগুয়েইন, লিওনেল মেসি, কার্লোস তেভেজ ও সার্জিও আগুয়েরো গোল করেন আর্জেন্টিনার হয়ে। ২০০০ সালের পর এটিই স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একমাত্র জয়।

অবশ্য সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সব সময় বড় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে না। বিশেষ করে বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো মঞ্চে অতীতের হিসাব অনেক সময়ই বদলে যায়।

তবে বিশ্বকাপে এই দুই দলের দেখা হয়েছে মাত্র একবার। ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ২-১ ব্যবধানে স্পেনকে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। প্রায় ছয় দশক পর এবার তারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে।

একদিকে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে স্পেন, অন্যদিকে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রেখে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য থাকবে আর্জেন্টিনার। শেষ পর্যন্ত অতীতের পরিসংখ্যানই সত্যি হবে, নাকি বিশ্বকাপের ফাইনালে লেখা হবে নতুন ইতিহাস? —সেই উত্তর মিলবে মাঠের লড়াই শেষে।