১৮ জুলাই ২০২৬, ১৮:৪৩

ফাইনালের আগে বড় দুঃসংবাদ দিলেন মার্তিনেজ

আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ  © সংগৃহীত

রাত পেরোলেই ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তারা। তবে মাঠে নামার আগে দুঃসংবাদ দিলেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। নিউইয়র্কের নিউজার্সিতে স্পেনের বিরুদ্ধে হাইভোল্টেজ শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্তিনেজ জানান, টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে তার ডান হাতের অনামিকা আঙুলে চিড় ধরেছিল। সেই থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের ফাইনালের আগ পর্যন্ত এখনও প্রতিদিনই তিনি তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। তবে দলের স্বার্থে অস্ত্রোপচার না করিয়ে ব্যথা নিয়েই খেলে যাওয়ার এক কঠিন ও সাহসী সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

মেগা ফাইনালের মাত্র দুই দিন আগে সংবাদ সম্মেলনে ৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক বলেন, ‘আমার হাতে এখনও প্রতিদিনই ব্যথা থাকে। চোটের পর জানতাম পরিস্থিতি এমনটাই হবে। এই চোটের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইংল্যান্ডের যেসব নামকরা চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করেছি, তারা সবাই আমাকে অবিলম্বে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি তা করিনি, কারণ অস্ত্রোপচার করালে বিশ্বকাপ অধরাই থেকে যেত। চোটের কারণে গ্রুপ পর্বে ঠিকমতো অনুশীলনও করতে পারিনি। তবে শেষ ষোলোর লড়াইয়ের পর থেকে আমি আর চোট নিয়ে মাথায় কিছু রাখিনি, মানসিকভাবে এখন অনেক ভালো অনুভব করছি।’

আর্জেন্টাইন প্রান্তের গোলপোস্টের এই প্রাচীর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পর অবসরের গুঞ্জনও উড়িয়ে দিয়েছেন। কয়েক বছর আগে সতীর্থ নিকোলাস ওতামেন্দির সঙ্গে আলাপচারিতায় অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্তিনেজ। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, তখন নিকোর সঙ্গে এএফএ (আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন)-এর অনুশীলন কেন্দ্রে আবেগতাড়িত হয়ে এমন কথা বলেছিলাম। কিন্তু এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য কেবল ফাইনাল জেতা। এই দল বছরের পর বছর ধরে নিজেদের ক্রমাগত উন্নত করেছে। কখনও কখনও আমরা যা যা অর্জন করেছি, তা একা একা ভেবে আমি কেঁদে ফেলি। তবে এই দলের হয়ে এখনও আনন্দ করার মতো অনেক কিছু বাকি আছে।’

কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের আসর বেশি উপভোগ করছেন জানিয়ে আলবিসেলেস্তেদের এই অতন্দ্র প্রহরী বলেন, ‘এবারের বিশ্বকাপ আমি অনেক বেশি উপভোগ করছি। কাতারে সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলাম। খুব বেশি শট মোকাবিলা করতে হয়নি, তবু গোল হজম করতে হয়েছিল। যদিও পরে পেনাল্টি শুটআউটে বড় ভূমিকা রাখতে পেরেছিলাম। এবার আমার খেলার আরও উন্নতি হয়েছে, বিশেষ করে পায়ে বল নিয়েও ভালো খেলছি। রবিবার ফাইনালে মাঠে নামলে আমাকে হাসিমুখেই দেখতে পাবেন।’

নিজের ইস্পাতকঠিন মানসিক দৃঢ়তার কথা তুলে ধরে মার্তিনেজ আরও বলেন, ‘প্রতিপক্ষ এক বা দুটি গোল করলেও পরের মুহূর্তে আমি একই দিবু থাকি। মাঠের বাইরের কোনো চাপ আমাকে বিন্দুমাত্র প্রভাবিত করে না। আমি শুধু গ্লাভস পরে নিজের সামর্থ্যের ওপর শতভাগ বিশ্বাস রাখি। কোটি মানুষের সামনে খেললেও যেকোনো ম্যাচেই আমি মার দেল প্লাতার সেই পাড়ার সাধারণ ছেলেটাই থাকি।’

ফাইনালে প্রতিপক্ষ স্পেন সম্পর্কে দিবুর মূল্যায়ন ছিল বেশ প্রশংসাসূচক। স্প্যানিশদের শক্তির গভীরতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা সত্যিই একটি দুর্দান্ত দল। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা অনেক ফুটবলারের কারণে স্পেনের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে আমার ভালো ধারণা আছে। তাদের একজন অসাধারণ কোচ আছেন। শুধু লামিনে ইয়ামাল নয়, স্পেনের পুরো দলই সমান শক্তিশালী। তারা নিজেদের যোগ্যতায় ফাইনালে উঠেছে। তাদের যেমন শক্তি আছে, আমাদেরও আছে। আশা করি, এটি এমন একটি ম্যাচ হবে যা ফুটবলপ্রেমীরা অনেক দিন মনে রাখবেন।’

কোয়ার্টার ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী থ্রি লায়ন্সদের বিদায় করার মুহূর্ত টেনে তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি জাতীয় দলের হয়ে আমার সবচেয়ে উপভোগ করা ম্যাচগুলোর একটি ছিল। এবার যদি আবার বিশ্বকাপ জিততে পারি, দেশের মানুষের উদযাপন কেমন হবে তা আমি শুধু কল্পনাই করতে পারি।’

ফাইনালে আবহাওয়া ও কন্ডিশন নিয়ে মার্তিনেজ বলেন, ‘কে প্রতিপক্ষ হবে তা আমরা ঠিক করি না, আমাদের কাজ খেলা। প্রতিটি ম্যাচই কঠিন। ফাইনাল ম্যাচটি বেশ গরম আবহাওয়ার মধ্যে হবে, তাই পরিস্থিতির সঙ্গে আমাদের দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে।’

আধুনিক ফুটবলে গোলরক্ষকের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এই তারকা বলেন, ‘একজন গোলরক্ষকের কাজ শুধু ভালো সেভ করা নয়। তাকে রক্ষণভাগ (ডিফেন্স) থেকে বেরিয়ে এসে সতীর্থদের আত্মবিশ্বাস জোগাতে হয়। আমি গোলপোস্টের নিচে শান্ত থাকলে সতীর্থরাও আত্মবিশ্বাস পায় এবং আক্রমণে মনোযোগ দিতে পারে। এবার আমরা অনেক গোল করেছি এবং আগের বিশ্বকাপের তুলনায় কম গোল হজম করেছি, যা আমাদের ভারসাম্য প্রকাশ করে।’