১৮ জুলাই ২০২৬, ১৮:১৯

ইয়ামালের সঙ্গে ভাইরাল সেই ছবি নিয়ে যা বললেন মেসি

শিশু লামিনে ইয়ামালের সঙ্গে লিওনেল মেসি  © সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ ফিফা বিশ্বকাপের চলতি আসরের ফাইনালকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সিতে স্পেনের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোচ লিওনেল স্কালোনি ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে সঙ্গে নিয়ে নিজের অনুভূতি ও ভাবনার কথা প্রকাশ করেন বিশ্ব ফুটবলের এই জীবন্ত কিংবদন্তি। আর সেখানেই অবধারিতভাবে উঠে আসে স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামালের সঙ্গে তার ১৯ বছর পুরনো সেই ভাইরাল হওয়া ছবির প্রসঙ্গ।

২০০৭ সালে পাঁচ মাস বয়সী ইয়ামালকে মেসির গোসল করানোর সেই অলৌকিক ছবি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে মেসি বলেন, ‘লামিনে ইয়ামাল সত্যিই একজন অসাধারণ ফুটবলার। সে এমন একটি ক্লাবে খেলছে, যেটিকে আমি সব সময় মনে-প্রাণে ভালোবাসি এবং যার প্রতিনিয়ত সাফল্য কামনা করি। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সামনে তার পুরো ক্যারিয়ার পড়ে আছে। ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম লেখানোর বড় সুযোগ তার রয়েছে; তবে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে যেন সেই ইতিহাস গড়ার শুরুটা এবার (ফাইনালে) না হয়।’

আর্জেন্টাইন ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে মেসির এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হয়েছে। ইয়ামালকে নিয়ে স্মৃতিচারণ ও ফাইনালের লড়াই প্রসঙ্গে আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মহাতারকা আরও বলেন, ‘আমি যখন ইউনিসেফের সেই চ্যারিটি ক্যালেন্ডারের জন্য তার সঙ্গে ছবি তুলেছিলাম, সে ছিল এক্কেবারে শিশু। আর আজ সময়ের পরিক্রমায় বিশ্বকাপের ফাইনালে তার বিপক্ষে ট্রফির জন্য লড়তে নামব—এটা ভাবতেই সত্যিই অবিশ্বাস্য লাগে। বর্তমানে সে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। আমি ব্যক্তিগতভাবে তার সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করি, কারণ তার ভালো খেলার মানে আমার প্রিয় ক্লাব বার্সেলোনারও ভালো হওয়া। তবে রবিবারের ফাইনালে আমরা এমন এক কৌশল নিয়ে মাঠে নামব, যাতে সে নিজের সেরা খেলাটা খেলার সুযোগ না পায়। যদিও আমরা জানি কাজটা মোটেও সহজ হবে না।’

স্পেনের সামগ্রিক শক্তি ও দলীয় ভারসাম্য নিয়ে মেসি বলেন, ‘শুধু লামিনে একাই নয়, স্পেনের পুরো স্কোয়াডেই অনেক মানসম্পন্ন ও বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে। তাদের খেলার নিজস্ব একটা সুন্দর ধরন ও ঐতিহ্য আছে। তবে আমাদেরও নিজস্ব শক্তি এবং পরিকল্পনা রয়েছে, আর সেটার ওপর শতভাগ ভর করেই আমরা ফাইনালে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করব।’

বিশ্বকাপ ফাইনালের আকাশচুম্বী চাপ সামলানো প্রসঙ্গে ফুটবল জাদুকর বলেন, ‘চাপ নিয়ে আমরা আসলে বাড়তি কোনো চিন্তা করি না। বিষয়টিকে আমরা খুব স্বাভাবিকভাবেই নিই। মাঠে নেমে দলের জন্য নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়া এবং খেলাটাকে মন থেকে উপভোগ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ একটি দল, যারা প্রতিটা ম্যাচ জিততে ভালোবাসে। তবে দিনশেষে ফুটবল একটি দলগত খেলা এবং প্রতিপক্ষ স্পেনও কিন্তু জয়ের জন্যই মাঠে নামবে। তাই ফুটবলে সব সময় জেতা সম্ভব নয়। ছোটবেলা থেকেই আমি একটি গভীর শিক্ষা পেয়েছি যে—ফুটবলে জয়ের চেয়ে হারই বেশি আসে। আর সেই কঠিন অভিজ্ঞতাগুলোই আমাকে মানুষ ও ফুটবলার হিসেবে আজ আরও পরিণত করেছে।’

নিজের ফুটবলের শুরুর দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে মেসি আবেগমথিত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থেকেই প্রচণ্ড আবেগ ও ভালোবাসা নিয়ে ফুটবল খেলা শুরু করেছিলাম। আমাদের সব সময় একটাই চাওয়া ছিল—মাঠে নামা, আনন্দ করা এবং প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করা। সেটা স্কুলের মাঠ, পাড়ার রাস্তা কিংবা ক্লাব—যেখানেই হোক না কেন, ফুটবল ছিল শুধুই নির্মল আনন্দের বিষয়। আমাদের দলের সবার শুরুটাই হয়েছিল পাড়ার সেই ধুলোবালি মাখা দল থেকে।’

রবিবার বিশ্ব আসরের ফাইনালের মহারণে একদিকে যেমন মেসির ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক রূপকথা সম্পূর্ণ করার মহাকাব্যিক মিশন, অন্যদিকে তারই শৈশবের সেই শিশুর স্পেনের হয়ে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন। দুই প্রজন্মের এই দ্বৈরথ দেখতে এখন অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী।