১৮ জুলাই ২০২৬, ১৩:১২

মেসিদের বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে বাংলাদেশে আসছেন আর্জেন্টিনার ফার্নান্দা-জনাথান

ফাইনাল দেখতে আসা দুই আর্জেন্টাইন নাগরিক ও সোনিয়া মুন্নি   © সংগৃহীত

লিওনেল মেসিদের বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে বাংলাদেশে আসছেন দুই আর্জেন্টাইন নাগরিক ফার্নান্দা ও জনাথান। আর্জেন্টিনা-স্পেনের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচটি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে উপভোগ করতে থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে এসেছেন তারা।

ব্যাংককে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে নিযুক্ত কূটনৈতিক সোনিয়া মুন্নি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ফার্নান্দা ও জনাথান আর্জেন্টিনার নাগরিক। তারা থাইল্যান্ড ভ্রমণে এসে আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠার পর বাংলাদেশে এসে ম্যাচ দেখার সিদ্ধান্ত নেন।

সোনিয়া মুন্নি তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘ফার্নান্দা ও জনাথান আর্জেন্টাইন নাগরিক, ওরা দু'জন আজ আমাদের ব্যাংকক দূতাবাসে এসেছিলো বাংলাদেশের ভিসা নিতে। ওরা থাইল্যান্ড বেড়াতে এসেছে মাস খানেক আগে। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা জয়ী হওয়ার পরে ওরা সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশে গিয়ে আর্জেন্টিনার ফাইনাল ম্যাচ দেখবে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘ওরা ছিলো থাইল্যান্ডের চিয়াংমাইতে,ব্যাংকক থেকে দূরের এক শহর। সেখান থেকে ফ্লাইটে ব্যাংককে এসে আজ ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে গেলো।’

বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার খেলা দেখার একটি ভিডিও দেখে জায়গাটি কোথায় জানতে চেয়েছিলেন ফার্নান্দা ও জনাথান। তারা সেখানে সবার সঙ্গে ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করতে চেয়েছেন বলে জানান সোনিয়া মুন্নি।

তিনি পোস্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার খেলা দেখার একটা ভিডিও ওদের মোবাইলে দেখিয়ে জায়গাটা কোথায় জানতে চাইলো, ওখানে ওরা সবার সাথে আর্জেন্টিনার ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করতে চায়। দেখলাম জায়গাটা আমার নিজের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রাজু ভাস্কর্য এলাকা।’

পরে ফার্নান্দা তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সোনিয়া মুন্নির সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করেন। সেখানে আর্জেন্টাইন স্প্যানিশ ভাষায় তিনি লেখেন, ‘Cuando lo mas Argentino que tenes cerca es Bangladesh!’ যার অর্থ, ‘When Bangladesh is the closest thing to Argentina!’ অর্থাৎ, ‘বাংলাদেশই যখন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে কাছের বিষয়।’

সোনিয়া মুন্নি এ বিষয়ে লিখেছেন, ‘সন্ধ্যায় অফিস থেকে বাসায় ফিরে দেখলাম, ফার্নান্দা ওর ইনেস্টা’র স্টোরিতে ওদের সাথে আমার একটা ছবি শেয়ার দিয়ে আর্জেন্টাইন স্প্যানিশে লিখেছে “Cuando lo mas Argentino que tenes cerca es Bangladesh!” মানে হলো এমন যে “When Bangladesh is the closest thing to Argentina!”’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘ওদের দেশ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলবে, এমন একটা আনন্দ-উদযাপনের সময়ে ওরা যখন নিজেদের দেশ থেকে অনেক দূরে, তখন আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা আর আবেগ দেখে বাংলাদেশকে ওদের কাছে অনেকটা আর্জেন্টিনার মতোই মনে হয়েছে…!!’

সোনিয়া মুন্নি মনে করেন, খেলাধুলা ও আবেগ কীভাবে দুই দেশের মানুষকে কাছাকাছি নিয়ে আসে, ফার্নান্দা-জনাথানের বাংলাদেশ সফর তারই উদাহরণ।

তিনি লিখেছেন, ‘আর্টস, স্পোর্টস, কালচার কিভাবে ডিপ্লোম্যাসিতে ভূমিকা রাখে সেটা নয়,বরং আমি মুগ্ধ হয়ে ভাবছি, আবেগ কিভাবে ভৌগোলিক ভূখণ্ডের দুই প্রান্তে থাকা দু’টি জাতিকে এক করে দেয়।’

নিজের পোস্টের শেষে তিনি লিখেছেন, ‘(বাঙালিদের মতো লাতিনোরাও যে অতি আবেগী, সেতো বহু বছর আগেই জেনেছি। যদি কখনো আত্মজীবনী লিখি, হয়তো সেখানে সেসব গল্প থাকবে। আমি সাধারণত অফিসিয়াল কাজের কোনো কিছু ব্যক্তিগত সোস্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করিনা,একমাত্র ব্যতিক্রম স্পোর্টস!)’

উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মুখোমুখি লড়াই ঘিরে বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। সেই আবেগ দেখেই দূর দেশ থেকে বাংলাদেশে এসে মেসিদের ফাইনাল উপভোগ করতে চান ফার্নান্দা ও জনাথান।