১৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৪

বিশ্বকাপে এক টুর্নামেন্টেই বদলে গেল ভোজিনহার জীবন

ভোজিনহা  © সংগৃহীত

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর জীবনটাই বদলে গেছে বলে জানিয়েছেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের অসাধারণ নৈপুণ্যে তিনি শুধু আলোচনায়ই আসেননি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন পরিচিতিও পেয়েছেন।

৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক এবং তার দেশ কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে অভিষেকেই নজর কাড়ে। স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে সাতটি অবিশ্বাস্য সেভ দিয়ে যাত্রা শুরু করেন তিনি। পরে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ম্যাচে আরও আটটি দুর্দান্ত সেভ করে লিওনেল মেসিদের বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেন।

বিশ্বকাপ চলাকালে ভোজিনহার অসাধারণ পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী ছিল প্রায় ৫০ হাজার। বিশ্বকাপ শেষে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি।

বৃহস্পতিবার ‘সিবিএস মর্নিংস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, যার পূর্ণ নাম জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস, তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে যা ঘটেছে, তার জন্য আমি খুবই কৃতজ্ঞ এবং আনন্দিত। সত্যি বলতে, আমি কখনোই এমন কিছু কল্পনা করিনি। সবকিছু যেন অবিশ্বাস্য গতিতে বদলে গেছে। এটা আমার জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা। আগে আমি প্রায় অচেনা একজন মানুষ ছিলাম, তাই বিষয়টি মানিয়ে নেওয়াও কিছুটা কঠিন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগে আমরা যখন বলতাম আমরা কাবো ভার্দে বা কেপ ভার্দে থেকে এসেছি, তখন বিশ্বের অনেক মানুষই জিজ্ঞেস করত, "ওটা কোথায়?" এখন আর সেই প্রশ্ন শুনতে হয় না। বিশ্ব আমাদের দেশকে চিনেছে। আমার কাছে এটিই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর এখন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবছেন ভোজিনহা। ৪০ বছর বয়সে তিনি এখনও খেলা চালিয়ে যেতে চান। বর্তমানে তিনি কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ নন।

ভোজিনহা বলেন, ‘আমি ফুটবলকে ভালোবাসি। ৪০ বছর বয়সেও খেলছি, কারণ এই খেলাটার প্রতি আমার গভীর ভালোবাসা আছে। আমি অন্তত আরও এক থেকে দুই বছর খেলতে চাই। আমার শরীর কীভাবে সাড়া দেয়, সেটা দেখতে চাই। ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কেউই নিশ্চিত নয়। তবে আমি খেলতে চাই এবং আশা করি এমন একটি ক্লাব পাব, যারা আমাকে একজন ফুটবলার হিসেবে দলে নিতে আগ্রহী হবে।’