১৬ জুলাই ২০২৬, ১৩:৫৩

মেসির উদাহরণ টেনে আরও এক বিশ্বকাপ খেলতে চান হ্যারি কেইন

হ্যারি কেইন   © সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে ইংল্যান্ড। তবে টুর্নামেন্ট শেষ হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইঙ্গিত দেননি অধিনায়ক হ্যারি কেইন। বরং ৩৯ বছর বয়সেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলে যাওয়া লিওনেল মেসির উদাহরণ টেনে ২০৩০ বিশ্বকাপেও খেলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর ম্যাচ শেষে সাংবাদিকরা হ্যারি কেইনকে প্রশ্ন করেন, এটিই কি তার শেষ বিশ্বকাপ?

জবাবে ইংল্যান্ড অধিনায়ক বলেন, 'আমার জন্য শেষ বিশ্বকাপ? ৩৯ বছর বয়সেও মেসিকে খেলতে দেখে আমি এখনই তেমনটা ভাবছি না।'

সেমিফাইনালে লিওনেল মেসি মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে দুটি অ্যাসিস্ট করেন। তার সেই দুটি নিখুঁত পাস থেকেই গোল করে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলে নেন।

২০৩০ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে কেইন আরও বলেন, 'এখনই এ বিষয়ে কিছু বলার সময় আসেনি। আমি বছর ধরে এগোই এবং দেখি আমার কেমন লাগে। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে আমি ভীষণ ভালোবাসি। তবে চার বছর অনেক দীর্ঘ সময়। আবার মেসির মতো একজনকে দেখুন, বেশি বয়সেও তিনি সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলছেন। সত্যি বলতে, আমি এখনই কিছু জানি না।'

চলতি মাসের শেষ দিকে ৩৩ বছরে পা দেবেন কেইন। ২০৩০ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় তার বয়স হবে ৩৬ বছর। যদি তিনি বর্তমানের মতোই নিজের সেরা পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারেন, তাহলে আবারও ইংল্যান্ডের নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বকাপে মাঠে নামার সম্ভাবনা থাকবে।

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ৩০ মিনিট ধরে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল। কিন্তু শেষ দিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি থমাস টুখেলের দল। সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথমে সমতা ফেরায় আর্জেন্টিনা। এরপর শেষ মুহূর্তে আরেকটি গোল করে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে জয় নিশ্চিত করে লা আলবিসেলেস্তেরা।

এই জয়ে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে খেলার টিকিট নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের শিবিরে নেমে এসেছে হতাশা।

ম্যাচের পর ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ থমাস টুখেলের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। যদিও তিনি নিজের বদলি এবং রক্ষণাত্মক পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

ইংল্যান্ডের অনেক সমর্থকের মতে, টুখেল দলকে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক করে ফেলেছিলেন। এর ফলে আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ গড়ে তোলার সুযোগ পায়। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ওয়েইন রুনিও একই মত প্রকাশ করেছেন। তার মতে, টুখেলের রক্ষণাত্মক কৌশলই শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের হারের অন্যতম কারণ।

ম্যাচ শেষে আরও একটি ঘটনা আলোচনায় আসে। টেলিভিশন ক্যামেরায় দেখা যায়, জুড বেলিংহ্যাম ক্ষুব্ধ হয়ে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার ভ্যালেন্তিন বার্কোকে আঘাত করেন। ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে এবং ফিফা বিষয়টি তদন্ত করবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

একসময় মনে হচ্ছিল, ইংল্যান্ডই ফাইনালে উঠবে। কিন্তু এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের দ্রুত দুটি গোল পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়।

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলেও ইংল্যান্ডের টুর্নামেন্ট এখনো শেষ হয়নি। থমাস টুখেলের দল তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে। সেই ম্যাচে জিততে পারলে ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এটিই হবে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ সমাপ্তি।

চলতি সপ্তাহান্তে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন পরিকল্পনা শুরু করবে ইংল্যান্ড। আর হ্যারি কেইনের বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি এখনই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাতে চান না। বরং চার বছর পর আবারও দেশের নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের লড়াইয়ে নামার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যেতে চান।