১৬ জুলাই ২০২৬, ১৩:১৯

স্পেন-আর্জেন্টিনা মুখোমুখি লড়াইয়ে কার পাল্লা ভারী?

ইয়ামাল ও মেসি   © টিডিসি ফটো

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল যাওয়া নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা দুই দল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও একে অপরের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছে দল দুটি। ফাইনালের আগে তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—মুখোমুখি লড়াইয়ে কার পাল্লা ভারী?

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। এমনিতেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত দ্বৈরথ। সেই জয়ের পর এবার লিওনেল মেসিদের সামনে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের দেখা হয়েছে মাত্র একবার। ফলে এই দুই দলের বিশ্বকাপ ইতিহাস ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার মতো সমৃদ্ধ নয়।

একমাত্র বিশ্বকাপ সাক্ষাতে জয়ের হাসি হেসেছিল আর্জেন্টিনা। তাই পরিসংখ্যানের বিচারে ফাইনালের আগে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে লা আলবিসেলেস্তেরা। তবে সেই ম্যাচটি এতটাই পুরোনো যে বর্তমান দুই দলের কোনো খেলোয়াড়ই তখন জন্মগ্রহণ করেননি। এমনকি আর্জেন্টিনার বর্তমান কোচ লিওনেল স্কালোনিরও তখন জন্ম হয়নি। আর স্পেনের বর্তমান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের বয়স তখন ছিল মাত্র পাঁচ বছর।

সব মিলিয়ে এটিই হতে যাচ্ছে স্পেন ও আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লড়াই। এর আগে তারা কখনো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মুখোমুখি হয়নি। বিশ্বকাপের ফাইনালে তো নয়ই। দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন ও ইউরোপের চ্যাম্পিয়নের মধ্যকার ফিনালিসিমা নয়, এবার তারা মুখোমুখি হচ্ছে তার চেয়েও বড় মঞ্চে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে।

এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হবেন লামিনে ইয়ামাল ও লিওনেল মেসি। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ইয়ামাল কি বিশ্বকাপ জিতবেন, নাকি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার মেসি টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে নতুন ইতিহাস গড়বেন—তার উত্তর মিলবে ফাইনালেই। যে দলই জিতুক, ম্যাচটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নেবে।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। সেই ম্যাচটি হয়েছিল ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে। সেখানে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে হারিয়েছিল স্পেনকে।

আর্জেন্টিনার হয়ে দুটি গোলই করেছিলেন লুইস আরতিমে। স্পেনের হয়ে একটি গোল করেছিলেন পিরি। তার গোলটি সাময়িকভাবে ম্যাচে সমতা ফিরিয়েছিল। তবে পরে আবার গোল করে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

সেই বিশ্বকাপে স্পেন গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।

সব ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও প্রীতি ম্যাচ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা।

এই লড়াইয়ে দুই দলের পরিসংখ্যান একেবারেই সমান। আর্জেন্টিনা জিতেছে ৬টি ম্যাচ, স্পেনও জিতেছে ৬টি। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

সে হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল শুধু শিরোপা নির্ধারণ করবে না, দুই দলের দীর্ঘদিনের মুখোমুখি লড়াইয়েও একটি দলকে এগিয়ে দেবে।

সবশেষ ২০১৮ সালের মার্চে একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন ও আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে স্পেন ৬-১ গোলের বড় জয় পেয়েছিল।

তখন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ ছিলেন না লিওনেল স্কালোনি। তবে তিনি হোর্হে সাম্পাওলির কোচিং স্টাফের সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে স্পেনের কোচ ছিলেন হুলেন লোপেতেগি। পরে ২০১৮ বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে নাটকীয়ভাবে তিনি স্পেনের দায়িত্ব ছেড়ে দেন।

২০১৮ সালের সেই ম্যাচের পর দুই দলেই এসেছে বড় পরিবর্তন। আর্জেন্টিনা জিতেছে দুটি কোপা আমেরিকা ও একটি বিশ্বকাপ। অন্যদিকে স্পেন জিতেছে একটি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউরো)।

আট বছর আগে এটি ছিল নিজেদের হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে থাকা দুই দলের ম্যাচ। আর ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দুই ফুটবল পরাশক্তি। তাই শিরোপার এই লড়াই ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।