১৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৫

আমার কোনো অনুশোচনা নেই: টুখেল

ইংল্যান্ড কোচ টুখেল   © সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর হতাশা প্রকাশ করলেও নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ থমাস টুখেল। ম্যাচ শেষে আইটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, তবে গোল করার পর মানসিকতার পরিবর্তনই শেষ পর্যন্ত হারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ম্যাচ শেষে এক সাক্ষাৎকারে টুখেলকে প্রশ্ন করা হয়, ‘ভালো দলই কি জিতেছে?’

জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না। আমার মনে হয়েছে, আমরা ১-০ গোলে এগিয়ে থাকার যোগ্য ছিলাম। কিন্তু গোল করার পর ম্যাচের গতি বদলে যায়। তখন তাদের হারানোর কিছু ছিল না, আর আমরা এমন খেলতে শুরু করি যেন হারানোর অনেক কিছু আছে। তারা ক্রমেই বেশি ঝুঁকি নিতে থাকে এবং শেষ ২০ মিনিটে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়।’

প্রতিবেদক উল্লেখ করেন, অ্যান্থনি গর্ডনের গোলের পর আর্জেন্টিনা বলের দখলে ছিল ৮৮ শতাংশ সময়।

এ বিষয়ে টুখেল বলেন, ‘আমারও ঠিক এমনটাই মনে হয়েছে।’

এরপর তাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘আসলে কোথায় ভুল হয়েছে?’

জবাবে ইংল্যান্ড কোচ বলেন, ‘চাপ থেকে বেরিয়ে আসার মতো পর্যাপ্ত সময় আমরা বল নিজেদের কাছে রাখতে পারিনি। আমরা সবকিছু চেষ্টা করেছি, কিন্তু বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারিনি। বিষয়টা এমন ছিল যেন ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। গোল করার পর থেকেই এটি শুরু হয়েছিল এবং মূলত এ কারণেই আমরা ম্যাচটি হেরেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গোল করার আগ পর্যন্ত আমরাই ভালো দল ছিলাম। কিন্তু গোলের পর আমাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আসে। তারা অনেক বেশি ঝুঁকি নিয়েছে, আর তাদের দলে অনেক মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে।’

ম্যাচের ৭১ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনকে তুলে এজরি কনসাকে নামানো এবং দলকে আরও নিচে নেমে রক্ষণাত্মক খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে টুখেল বলেন, ‘আমরা বদলি করার পর নয়, গোল করার পর থেকেই নিচে নেমে খেলছিলাম। এই সিদ্ধান্তের দায়িত্ব আমি নিচ্ছি। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর কোচিং নিয়ে কথা বলা খুব সহজ। ফলাফলই সবকিছু বলে দেয়। অন্য কোনো বদলি করলে কী হতো, সেটা কেউ বলতে পারে না। আমি মনে করেছি, প্রতিপক্ষের বারবার ক্রস ঠেকাতে আমাদের পাঁচজনের রক্ষণভাগ দরকার ছিল।’

রক্ষণভাগের দুর্বলতা নিয়েও কথা বলেন এই জার্মান কোচ। তিনি বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় সারির খেলোয়াড়দের ফাঁকা জায়গা দিয়ে উঠে আসা থামাতে পারিনি। ওই মুহূর্তগুলোতে আমরা যথেষ্ট শারীরিকভাবে শক্ত ছিলাম না। এটা শুধু দলের কাঠামোর বিষয় নয়। যেকোনো কাঠামোতে নিচে নেমে রক্ষণ করা যায়, যদি সবাই সক্রিয় থাকে। কিন্তু আমরা খুবই নিষ্ক্রিয় ছিলাম।’

ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন বলেছেন, ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল এবং ইউরো ২০২০-এর ফাইনালের মতো এবারও ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেও দল হেরেছে। এ প্রসঙ্গে টুখেল বলেন, 'এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারি না। কারণ আমি তখন দলের অংশ ছিলাম না।'

সবশেষে নিজের অনুভূতি জানিয়ে টুখেল বলেন, 'আমার কোনো অনুশোচনা নেই। আমরা সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। হার মেনে নেওয়া কঠিন, কারণ আমরা হারতে ঘৃণা করি। আমরা খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। পুরো বিষয়টি নিয়ে মূল্যায়ন করতে হলে আমাদের একটু সময় নিতে হবে এবং সবকিছু ঠান্ডা মাথায় বিশ্লেষণ করতে হবে।'