১৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৩

মারামারি আর ফাউলে গোলশূন্য প্রথমার্ধ আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ডের

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ   © সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা কিংবা ইংল্যান্ড। উত্তেজনাপূর্ণ এই লড়াইয়ে আক্রমণের চেয়ে শারীরিক দ্বৈরথ ও ফাউলের সংখ্যাই ছিল বেশি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে গিয়েছে দল দুটি।

প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দল মিলিয়ে মোট ১৯টি ফাউল হয়েছে। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা করেছে ১২টি, আর ইংল্যান্ড ৭টি। মাঝমাঠের লড়াইয়ে একে অপরকে থামাতে বারবার কঠোর ট্যাকলের আশ্রয় নিয়েছে দুই দল।

আক্রমণভাগেও খুব বেশি কার্যকর হতে পারেনি কোনো দল। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড—দুই দলই কয়েকটি শট নিলেও কোনোটিই লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। ফলে দুই গোলরক্ষককে বড় কোনো পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রথমার্ধে সতর্ক ফুটবল খেলেছে দুই দলই। এখন দ্বিতীয়ার্ধে কে কৌশল বদলে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারে, সেটিই হতে পারে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি।

ম্যাচের ২০ মিনিট পার হলেও কোনো দলই উল্লেখযোগ্য আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। ফলে গোলের চেয়ে শারীরিক লড়াই ও কৌশলগত ফুটবলই বেশি দেখা যায়।

৩২তম মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করে ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহামের দারুণ দৌড়ে আদায় করা ফ্রি-কিক থেকে ডেকলান রাইসের ভাসানো বলে জন স্টোনস লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে হারিয়ে হেড নেন। তবে তার প্রচেষ্টা অল্পের জন্য পোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

৩৭তম মিনিটে লিওনেল মেসি একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় অ্যান্ডারসনের ট্যাকলে মাটিতে পড়ে যান। ঘটনাটি ঘিরে দুই দলের খেলোয়াড়রা রেফারি ইসমাইল এলফাথকে ঘিরে ধরেন। কিছুক্ষণ উত্তেজনা তৈরি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন রেফারি। ওই ফাউলের জন্য ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন অ্যান্ডারসন।

৩৯তম মিনিটে আসে আর্জেন্টিনার সেরা সুযোগ। মেসির দ্রুত নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে পারেদেসের সঙ্গে ওয়ান-টু পাস খেলে ফের বল পান তিনিই। পরে তার শট হ্যারি কেইনের গায়ে লেগে ফিরে গেলে দূরপাল্লা থেকে জোরালো শট নেন এনজো ফার্নান্দেস। তবে বল অল্পের জন্য গোলবারের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়।

৪২তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে উঠতে থাকা মর্গান রজার্সকে টেনে থামিয়ে দেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। এই ফাউলের জন্য ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে হলুদ কার্ড দেখেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ডিফেন্ডার।

রেফারি তিন মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করলেও কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে উত্তেজনাপূর্ণ প্রথমার্ধ শেষে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড।