আর্জেন্টিনাকে থামাতে ‘এন্টি-মেসি পরিকল্পনার’ কথা জানালেন ইংল্যান্ডের কোচ টুখেল
২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে লিওনেল মেসিকে থামানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল। তিনি বলেছেন, মেসির খেলার ধরন নিয়ে তারা বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছেন এবং তাকে ঠেকাতে বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, মেসির মতো ফুটবলারের জন্য কোনো পরিকল্পনাই নিশ্চিত সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না।
বুধবার আটলান্টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এই ম্যাচের বিজয়ী দল খেলবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে। ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছেন লিওনেল মেসি। তাকে কীভাবে থামানো যায়, সেই পরিকল্পনাই তুলে ধরেছেন টুখেল।
মজার বিষয় হলো, আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৫টি ম্যাচ খেললেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এখনো কোনো ম্যাচ খেলেননি মেসি। ২০০৫ সালের নভেম্বরে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় একটি প্রীতি ম্যাচে শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। সেটিই ছিল মেসির অভিষেকের বছর। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর।
এখন ৩৯ বছর বয়স হলেও মেসি বিশ্বের যেকোনো শক্তিশালী দলের জন্য বড় হুমকি। চলতি বিশ্বকাপে আটটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। তাই তাকে থামানোর উপায় নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক জানতে চান, মেসিকে কি পুরো ম্যাচজুড়ে একজন খেলোয়াড় দিয়ে পাহারা দেওয়া হবে? প্রশ্ন শুনে হাসতে হাসতে টুখেল বলেন, ‘আমি এটা নিয়ে ভেবেছি... হ্যাঁ, আমরা পুরোনো স্টাইলে একজন খেলোয়াড়কে শুধু ওকে পাহারা দিতে বলব!’
এরপর তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত নই যে আমরা শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব কি না। তবে বিষয়টি আমার মাথায় এসেছিল।’
মেসিকে নিয়ে ইংল্যান্ডের বিশ্লেষক দল অনেক কাজ করেছে বলেও জানান টুখেল। তবে তার মতে, মেসিকে পুরোপুরি অনুমান করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘সবাই জানে, মাঠের কোন জায়গাগুলোতে সে বল পেতে চায়। ম্যাচ বিশ্লেষণ করলে বিষয়গুলো আরও পরিষ্কার হয়। বল তার কাছে যায়, আর সে ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেয়। ওর ম্যাচে কিছু নির্দিষ্ট ধারা আমরা খুঁজে পেয়েছি। কিন্তু সেই ধারা বন্ধ করে দিলেও তারা নতুন একটি উপায় বের করে ফেলবে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং লিওনেল মেসির বিপক্ষে খেলা সত্যিই অন্যরকম অভিজ্ঞতা।’
মেসির নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন ইংল্যান্ড কোচ।
তিনি বলেন, ‘সে যেভাবে এই দলকে নেতৃত্ব দেয়, তা অবিশ্বাস্য। এটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এ বিষয়ে কথা বলার আমি কে? এমন অর্জনকে বর্ণনা করার মতো ভাষা আমার নেই। সে শুধু নেতা নয়, যে দলেই খেলুক, সেই দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।’
আর্জেন্টিনার খেলার ধরন ব্যাখ্যা করে টুখেল বলেন, ‘মেসির পায়ে বল গেলেই পুরো দলের চলাফেরা শুরু হয়ে যায়। তার কাছে বল পৌঁছে দেওয়ার টেকনিক্যাল মান অসাধারণ। আমাদের অনেক বিষয় মাথায় রাখতে হবে। আমরা নিজেদের খেলার ধরনেই খেলতে চাই এবং নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা জানি, চ্যালেঞ্জটা কতটা কঠিন। তবে আমরা প্রস্তুত।’
এদিকে ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার ও বর্তমানে টেলিভিশন বিশ্লেষক জেমি ক্যারাঘারও মেসিকে থামানোর একটি কৌশলের কথা বলেছেন। স্কাই স্পোর্টসে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি টুখেলকে পরোক্ষভাবে একটি পরামর্শ দেন।
ক্যারাঘার বলেন, ‘আর্জেন্টিনা রক্ষণে নামলে মূলত নয়জন আউটফিল্ড খেলোয়াড় নিয়ে ডিফেন্ড করে। ইংল্যান্ড সেই বিষয়টির সুবিধা নিতে পারে।’
এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষের দখলে বল থাকলে মেসি খুব বেশি নড়াচড়া করে না। তাই ইংল্যান্ডের বাঁ প্রান্তের ডিফেন্ডারের পুরো ম্যাচ শুধু মেসির কাছেই লেগে থাকার প্রয়োজন নেই।’
তবে ক্যারাঘার পরিষ্কার করে দেন, এটি মেসির সমালোচনা নয়। বরং তাকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার বলেই মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘মেসিকে নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। সে গত ২০ বছর ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলছে, আর এখন পর্যন্ত কেউ তার সমাধান খুঁজে পায়নি। কিন্তু তারপরও একটি পরিকল্পনা থাকতে হবে। আমি মনে করি না, পুরো ম্যাচ একজন খেলোয়াড়কে শুধু তার পেছনে রাখাই সমাধান। তবে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অবশ্যই দরকার। খেলোয়াড়রাও সেটাই আশা করে। এটা কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ নয়। কারণ আপনি এমন একজন ফুটবলারের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছেন, যাকে অনেকেই সর্বকালের সেরা বলে মনে করেন। এই বিশ্বকাপেও সে সেটি আবারও প্রমাণ করেছে।’