স্পেনের কাছে হারের পর মুখ খুললেন এমবাপ্পে
২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। দলের ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থতা, টেকনিক্যাল ভুল এবং মাঝমাঠে স্পেনের আধিপত্যই তাদের হারের প্রধান কারণ।
ম্যাচ শেষে এম৬-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে বলেন, ‘আমরা যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম, সেভাবে খেলতে পারিনি। কৌশলগতভাবে, টেকনিক্যালি কিংবা সামগ্রিক পারফরম্যান্স—কোনো দিক থেকেই আমরা নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারিনি। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে যদি প্রয়োজনীয় কাজগুলো ঠিকভাবে করতে না পারেন, তাহলে জেতা সম্ভব নয়। স্পেন তাদের নিজস্ব পরিকল্পনাতেই অটল ছিল। তারা সবসময় বল দখলে রাখতে চায় এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল ওপরে উঠে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা নিজেদের ছন্দে খেলতে না পারে। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারিনি। আমাদের অনেক টেকনিক্যাল ভুল হয়েছে। সবচেয়ে প্রয়োজনের সময়ে আমরা তাদের বিপদে ফেলতে পারিনি।’
নিজেদের ভুল বিশ্লেষণ করতে গিয়ে স্পেনের মিডফিল্ডারদের ভূয়সী প্রশংসা করেন ফরাসি অধিনায়ক। তার মতে, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই ম্যাচে ফিরতে পারেনি ফ্রান্স।
এমবাপ্পে বলেন, ‘আমরাই তাদের ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ করে দিয়েছি। ম্যাচের ভারসাম্য বদলে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব ছিল, কিন্তু সেখানেই আমরা ব্যর্থ হয়েছি। শুরু থেকেই প্রেসিং করার সময় মাঝমাঠে আমরা বারবার দুইজন বনাম তিনজনের পরিস্থিতিতে পড়েছি। স্পেনের মতো দলের বিপক্ষে এটা সামলানো খুব কঠিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফাবিয়ান রুইজ এবং রদ্রি অনেক বেশি সময় ও জায়গা পেয়েছে। প্রেসিংয়ের সময় আমাদের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি ছিল। আমাদের উচিত ছিল একজনের বিপরীতে একজন লড়াই করা এবং তাদের দৌড়াতে বাধ্য করা। কারণ স্পেন এমন একটি দল, যারা বল ছাড়া বেশি দৌড়াতে পছন্দ করে না। আবার আমরা যখন বল ফিরে পেয়েছি, তখনও প্রথম পাস কিংবা প্রথম টাচ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মান অনুযায়ী ছিল না। এই সব ভুল একসঙ্গে যোগ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আমাদের হারতে হয়েছে।’
টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় হতাশার কথাও জানান এমবাপ্পে। তবে এই ব্যর্থতা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।
ফরাসি এই তারকা বলেন, ‘অন্য সবার মতো আমিও ভীষণ হতাশ। আমাদের স্বপ্ন ছিল ফাইনালে ওঠা, দেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দেওয়া, ইতিহাস গড়া। কিন্তু সেটা আর হলো না। এখন আমাদের মাথা উঁচু করেই এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। হতাশাটা এতটাই বড় যে ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এখন আমাদের এই ধাক্কা সামলে উঠতে হবে, কিছুদিন বিশ্রাম নিতে হবে, তারপর আবার সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ফুটবল কারও জন্য অপেক্ষা করে না। ক্লাব এবং জাতীয় দল—দুই জায়গাতেই সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে।’