১৩ জুলাই ২০২৬, ১৯:২৯

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচে কে জিতবে, জানাল অপ্টা সুপারকম্পিউঠার 

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচে কে জিতবে  © সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। আগামী বুধবার (১৫ এপ্রিল) আটলান্টা স্টেডিয়ামে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার এই মহারণে দুই দলের শক্তির ব্যবধান এতটাই কম যে, কাউকেই এককভাবে ফেবারিট বলা যাচ্ছে না। তবে এই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রেখেছে কৃত্রিমবৃদ্ধিমত্তা সম্পন্ন প্রেডিকশন যন্ত্র অপ্টা সুপারকম্পিউটার। অপ্টার হিসাব অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ৫২.৯ শতাংশ।

চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের দুই তারকা হ্যারি কেন এবং জুড বেলিংহাম ইতিমধ্যেই ৬টি করে গোল করেছেন। বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম একই দেশের দুই খেলোয়াড় একই টুর্নামেন্টে ৬ বা তার বেশি গোল করার অনন্য নজির গড়লেন। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও অতিরিক্ত সময়ে জুড বেলিংহামের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানের নাটকীয় জয় পেয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে থ্রি লায়ন্সরা।

অন্যদিকে, লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৭টি গোল করেছে। আর মাত্র ১টি গোল করলেই তারা বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৮ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করবে।

ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ফুটবলীয় দ্বৈরথের ইতিহাস বহু পুরনো এবং এতে জড়িয়ে আছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস যুদ্ধের রাজনৈতিক উত্তেজনা দুই দেশের ফুটবল মাঠেও বড় প্রভাব ফেলেছিল।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই দলের সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াই হয়েছিল ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। সেই ম্যাচে প্রয়াত ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই কুখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ঠিক পরপরই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র ওপর ভর করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা।

এর ঠিক ১২ বছর পর, ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে শেষ ১৬-র লড়াইয়ে আবারও এই দুই দল মুখোমুখি হয়। পেনাল্টি শুটআউটের সেই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল আর্জেন্টিনার বর্তমান কোচ দিয়েগো সিমেওনেকে লাথি মেরে ইংল্যান্ডের তৎকালীন উদীয়মান তারকা ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড পাওয়া। এর জের ধরে ইংল্যান্ডে ফেরার পর বেকহ্যামকে দীর্ঘদিন ফুটবল ভক্তদের তীব্র রোষানলে পড়তে হয়েছিল।

তবে এর চার বছর পর, ২০০২ সালের বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে গোল করে ১-০ ব্যবধানের জয়ে সেই দুঃখ ভুলে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছিলেন বেকহ্যাম। সেটিই ছিল বিশ্বকাপে এই দুই দলের শেষ দেখা।।