১৩ জুলাই ২০২৬, ১৮:৪৩

কেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নীল জার্সি পড়ে মাঠে নামতে চায় আর্জেন্টিনা?

নীল জার্সিতে মেসিরা  © সংগৃহীত

চলতি বিশ্বকাপে উড়তে থাকা আর্জেন্টিনা দল তাদের নীল (অ্যাওয়ে) জার্সিটি এখন পর্যন্ত মাত্র একবারই পরেছে—ডালাসে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয়ের দিন। তবে আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল মহারণের আগে ফিফার কাছে একটি বিশেষ ও ব্যতিক্রমী আবেদন করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

আর্জেন্টাইন দল ফিফার কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, যেন বুধবারের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাদের চিরচেনা আকাশী-সাদা হোম জার্সির পরিবর্তে বিকল্প নীল জার্সি পরে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়। আর্জেন্টিনার খ্যাতনামা ক্রীড়া সাংবাদিক গ্যাস্টন এদুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ‘ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নীল জার্সি পরে খেলার আবেদন করেছে আর্জেন্টিনা।’ তবে ফিফার পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তটি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি; মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য অফিশিয়াল টেকনিক্যাল মিটিংয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা হবে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে নিজেদের ঘরের জার্সি বা হোম কিট থাকার পরও আর্জেন্টিনা কেন বিকল্প জার্সির জন্য আবেদন করল, তা নিয়ে অফিশিয়ালি কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে কাজ করছে লাতিন পরাশক্তিদের ফুটবল সংস্কৃতির চিরন্তন ‘অন্ধবিশ্বাস’ ও ইতিহাস।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড এ পর্যন্ত মোট ৫ বার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে ৩ বারই দেখা হয়েছে টুর্নামেন্টের নক-আউট পর্বে। মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে ইংল্যান্ডের ৩ জয়ের বিপরীতে আর্জেন্টিনার জয় ২টি। তবে আর্জেন্টিনার সেই দুটি জয়ই ছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুটি ম্যাচ।

১৯৮৬ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত হ্যান্ড অব গড ও গোল অব দ্য সেঞ্চুরির ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। পরেরবার ১৯৯৮ বিশ্বকাপ শেষ ষোলোতে নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ সমতার পর নাটকীয় পেনাল্টি শুটআউটে জয় পায় আলবিসেলেস্তেরা।

মজার এবং কাকতালীয় ব্যাপার হলো, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার এই দুটি ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় জয়েই দলটির গায়ে আকাশী-সাদোর বদলে ছিল তাদের বিকল্প গাঢ় নীল জার্সি। অন্যদিকে, ২০০২ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা তাদের নিয়মিত আকাশী-সাদা জার্সি পরে মাঠে নামলে ইংল্যান্ডের (যারা সে ম্যাচে লাল জার্সি পরেছিল) কাছে হেরে যায়। মূলত ১৯৮৬ ও ১৯৯৮ সালের সেই ‘লাকি’ নীল জার্সির ইতিহাস ফিরিয়ে এনে মাঠের মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতেই ফিফার দ্বারস্থ হয়েছে আর্জেন্টিনা।