চোটের কারণে খেলতে না পারলেও সুইস তারকার মুখে হাসি ফোটালেন মেসি
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামার স্বপ্নটা চোটের কারণে ভেঙে যায় সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ইয়োহান মানজাম্বির। তবে ম্যাচ শেষে হতাশা নিয়েই স্টেডিয়াম ছাড়তে হয়নি তাকে। লিওনেল মেসির কাছ থেকে পাওয়া একটি জার্সিই বদলে দেয় তার দিনের শেষ মুহূর্ত। আর্জেন্টিনা অধিনায়কের এই উপহার মুখে হাসি ফোটায় সুইস তারকার।
সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। শ্বাসরুদ্ধকর এই জয়ের পর উদযাপনে মেতে ওঠেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা। ম্যাচ শেষে বরাবরের মতোই মেসির জার্সি পাওয়ার জন্য ভিড় করেন অনেকেই। সেই সৌভাগ্যবানদের তালিকায় ছিলেন সুইজারল্যান্ডের ইয়োহান মানজাম্বি এবং ইতালির কিংবদন্তি ফুটবলার রবার্তো বাজ্জিও।
চলতি বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের অন্যতম সেরা পারফর্মার ছিলেন মানজাম্বি। চার ম্যাচে তিন গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে তিনি দলের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসায় পরিণত হয়েছিলেন। তবে বাঁ হাঁটুর চোটের কারণে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি। দলের লড়াই তাকে গ্যালারি থেকেই দেখতে হয়েছে।
তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত হলে মেসির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান মানজাম্বি। তিনি আর্জেন্টিনা অধিনায়কের কাছে একটি জার্সি চান। মেসিও তাকে নিরাশ করেননি। নিজের জার্সি উপহার দেন আটবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী এই তারকা। সেই স্মরণীয় উপহার নিয়েই স্টেডিয়াম ছাড়েন সুইস ফরোয়ার্ড।
অন্যদিকে, ইতালির কিংবদন্তি ফুটবলার রবার্তো বাজ্জিওও মেসির কাছ থেকে জার্সি উপহার পেয়েছেন। পরে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে মেসির সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করেন তিনি। ছবিতে মেসির দেওয়া জার্সি হাতে দেখা যায় বাজ্জিওকে।
পোস্টে মেসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাজ্জিও লেখেন, ‘ধন্যবাদ লিও, তোমার মূল্যবান উপহার এবং ভালোবাসার জন্য। তোমাকে ভালোবাসি বন্ধু।’
মেসি ও বাজ্জিওর সম্পর্ক অবশ্য আজকের নয়। এই বন্ধুত্বের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে সাবেক বার্সেলোনা কোচ পেপ গার্দিওলার। ২০০১-০২ মৌসুমে ইতালির ক্লাব ব্রেসিয়ায় বাজ্জিওর সতীর্থ ছিলেন গার্দিওলা। পরে বার্সেলোনার কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১০ সালে মেসি ও বাজ্জিওর প্রথম সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনিই।
এদিকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আগামী বুধবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ। দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০০৫ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে। আর বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের শেষ লড়াই হয়েছিল ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে। দীর্ঘ ২৪ বছর পর আবারও বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী।