১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২২

বিশ্বকাপে এক মিনিটও না খেলে সেমিফাইনালে তারা

কোন ম্যাচ না খেলা ফুটবলাররা   © টিডিসি ফটো

বিশ্বকাপে ছয়টি ম্যাচ পেরিয়ে সেমিফাইনালে উঠে গেছে চার দল। অথচ এই দীর্ঘ পথচলায় এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামার সুযোগ পাননি ১৮ ফুটবলার। বেঞ্চে বসেই দলের সাফল্যের সাক্ষী হয়েছেন তারা। এবার প্রশ্ন, সেমিফাইনাল বা সম্ভাব্য ফাইনালে কি অবশেষে সুযোগ মিলবে এই অপেক্ষার প্রহর গোনা ফুটবলারদের?

২০২৬ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। চার দলের স্কোয়াডে থাকা ১৮ জন ফুটবলার এখনও টুর্নামেন্টে অভিষেকের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮ জন গোলরক্ষক এবং ১০ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড়।

বিশ্বকাপের প্রতিটি দল ইতোমধ্যে ছয়টি করে ম্যাচ খেলেছে। তারপরও এই ১৮ জন এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামতে পারেননি। মঙ্গলবার ডালাসে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেন ও ফ্রান্স। আর বুধবার আটলান্টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়বে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড।

এখন পর্যন্ত চার সেমিফাইনালিস্ট দলের কেউই তাদের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক পরিবর্তন করেনি। ফলে প্রতিটি দলের দুইজন করে রিজার্ভ গোলরক্ষক পুরো টুর্নামেন্টে বেঞ্চেই বসে আছেন।

স্পেনের হয়ে এখনও মাঠে নামেননি আর্সেনালের ডেভিড রায়া এবং বার্সেলোনার হোয়ান গার্সিয়া। ফ্রান্সের হয়ে এখনও খেলার সুযোগ পাননি রেনের ব্রিস সাম্বা ও লেন্সের রবিন রিসার।

আর্জেন্টিনা দলের দুই রিজার্ভ গোলরক্ষক জেরোনিমো রুল্লি এবং হুয়ান মুসোও এখনও মাঠে নামার অপেক্ষায়। একইভাবে ইংল্যান্ডের জেমস ট্র্যাফোর্ড ও ডিন হেন্ডারসনও এখনও পুরো বিশ্বকাপ কাটিয়েছেন বেঞ্চে বসেই।

তবে শুধু গোলরক্ষকরাই নন, বিশ্বের পরিচিত কয়েকজন তারকা ফুটবলারও এখনও খেলার সুযোগ পাননি।

ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম এখনও অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার এন’গোলো কান্তে এবং ডিফেন্ডার লুকাস হার্নান্দেজকে মাঠে নামাননি। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে তাদের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারদের বেঞ্চে বসে থাকাও বিস্ময় জাগিয়েছে অনেকের মধ্যে।

ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেলও চারজন ফুটবলারকে এখনও অভিষেকের সুযোগ দেননি। তারা হলেন ট্রেভোহ চালোবাহ, কোবি মাইনু, জর্ডান হেন্ডারসন এবং ইভান টনি। চারজনই নিজ নিজ ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হলেও বিশ্বকাপে এখনও অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের।

স্পেন দলে অভিষেকের অপেক্ষায় রয়েছেন আরও চার ফুটবলার। তারা হলেন এরিক গার্সিয়া, মার্টিন সুবিমেন্দি, আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো এবং ভিক্টর মুনিওস। পুরো টুর্নামেন্টে তারা এখনও কোচের ডাগআউট থেকেই দলের লড়াই দেখেছেন।

বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসরে ছয়টি ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও এক মিনিটও মাঠে না নামা অবশ্য বিরল ঘটনা। তবে টুর্নামেন্ট এখনও শেষ হয়নি। সেমিফাইনাল কিংবা ফাইনালে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে এই ১৮ ফুটবলারের কারও বিশ্বকাপ অভিষেক হতে পারে। এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।