আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে যে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে ইংল্যান্ড
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে একটি বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে ইংল্যান্ড। দুই দলই কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময় খেলে শেষ চার নিশ্চিত করলেও, আর্জেন্টিনার তুলনায় কম সময় মাঠে কাটানো এবং কয়েক ঘণ্টা বেশি বিশ্রামের সুযোগ পাওয়ায় শারীরিকভাবে কিছুটা এগিয়ে থাকবে থমাস টুখেলের দল।
২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। নকআউট পর্বে এটিই ছিল তাদের প্রথম ম্যাচ, যা নির্ধারিত ৯০ মিনিটের বাইরে গড়ায়।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো অতিরিক্ত সময় খেলতে হয়েছে। শেষ ষোলোতে কেপ ভার্দেকে হারানোর পর কোয়ার্টার ফাইনালেও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল। ফলে ইংল্যান্ডের তুলনায় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের শরীরে ম্যাচের চাপ অনেক বেশি জমেছে।
শুধু অতিরিক্ত সময়ই নয়, বিশ্রামের দিক থেকেও এগিয়ে ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে তারা আর্জেন্টিনার কয়েক ঘণ্টা আগেই মাঠে নেমেছিল। আর্জেন্টিনার সময় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয় ইংল্যান্ডের ম্যাচ, আর আর্জেন্টিনা খেলতে নামে রাত ১০টায়। ফলে বুধবারের সেমিফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা আর্জেন্টিনার তুলনায় কয়েক ঘণ্টা বেশি পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাচ্ছেন।
বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ে এসে টানা ম্যাচের কারণে খেলোয়াড়দের শরীরে ক্লান্তি জমে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে কয়েক ঘণ্টার অতিরিক্ত বিশ্রামও গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। সে কারণেই আর্জেন্টিনা শিবির এখন খেলোয়াড়দের পুনরুদ্ধার নিয়েই সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত।
দুই ম্যাচের মাঝে চার দিনেরও কম সময় থাকায় কোচ লিওনেল স্কালোনি ও তার কোচিং স্টাফের মূল লক্ষ্য খেলোয়াড়দের দ্রুত সতেজ করে তোলা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালে সেরা শারীরিক অবস্থায় দলকে মাঠে নামাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে।
তবে একটি দিক থেকে আবার ইংল্যান্ডকেই বেশি ধকল সামলাতে হয়েছে। সেমিফাইনালে ওঠা চার দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করেছে তারাই।
কানসাস সিটিকে বেস ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে একের পর এক শহরে যাতায়াত করতে হয়েছে টুখেলের দলকে। তারা ডালাস, বোস্টন, নিউইয়র্ক/নিউ জার্সি, আটলান্টা, মেক্সিকো সিটি এবং মায়ামিতে ম্যাচ খেলেছে। প্রতিটি ম্যাচ শেষে আবার কানসাস সিটিতে ফিরে গিয়ে পরবর্তী ম্যাচের জন্য নতুন করে যাত্রা করেছে।
সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ বিমান ভ্রমণ করেছে। তাই মাঠে তুলনামূলক কম সময় খেললেও দীর্ঘ ভ্রমণের চাপ তাদেরও কম ছিল না।
সেমিফাইনালের আগে তাই দুই দলের প্রস্তুতিতে দেখা যাচ্ছে দুই ভিন্ন চিত্র। আর্জেন্টিনা বেশি সময় মাঠে খেলে শারীরিকভাবে বেশি ক্লান্ত হলেও ইংল্যান্ডকে সামলাতে হয়েছে দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল। তবে বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টার বাড়তি সুবিধা নিয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামবে থমাস টুখেলের দল।