সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে যা বললেন আর্জেন্টাইন কোচ
চরম নাটকীয়তা আর স্নায়ুচাপের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিশ্বকাপের শেষ চার বা সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আজ রবিবার (১২ জুলাই) কানসাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচ শেষে এক প্রতিক্রিয়া জানাত গিয়ে আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, যেকোনো কঠিন ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শান্ত থাকা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমাধান খুঁজে নেওয়ার সক্ষমতাই এখন এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি।
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল পর্যন্ত আসার পথটা মোটেও সহজ ছিল না। প্রতিটি ম্যাচেই তাদের কঠিন অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয়েছে। শেষ বত্রিশের ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে দু-দুবার লিড হারিয়েও ৩-২ ব্যবধানে কষ্টার্জিত জয় পায় তারা। এরপর শেষ ষোলোর নকআউট ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনে ৩-২ গোলের জয় ছিনিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা। আর আজ কোয়ার্টার ফাইনালেও সুইসদের তীব্র চাপের মুখে পড়তে হয়েছে মেসি-বাহিনীকে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে আরও দুটি গোল করে শেষ হাসি হাসে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কোচ স্কালোনি দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে বলেন, ‘আমরা জানতাম এই ম্যাচে আমাদের প্রচুর কষ্ট করতে হবে। লড়াই করা এবং কষ্ট সওয়া আমাদের রক্তে, আমাদের ডিএনএ-র অংশ। আর এই মানসিকতাই আমাদের মাঠে শান্ত থাকতে সাহায্য করে।’
তিনি মনে করেন, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে অর্জিত অভিজ্ঞতাই বর্তমান দলকে এমন খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে এবং চাপ সামাল দিতে বড় ভূমিকা রাখছে। কাতারের স্মৃতি রোমন্থন করে স্কালোনি বলেন, ‘কাতারে আমরা এতটা অভিজ্ঞ ছিলাম না, এমনকি আমিও ছিলাম না। তখন এই ধরনের স্নায়ুচাপের পরিস্থিতি সামলানো আমাদের জন্য খুব কঠিন ছিল। কিন্তু এখন আমরা অনেক বেশি পরিপক্ব। প্রতিপক্ষের দাপট সামলানো কিংবা হঠাৎ সমতাসূচক গোল হজম করার পরও কীভাবে মাথা ঠান্ডা রাখতে হয়, তা আমাদের জানা। এই দল কখনোই হাল ছাড়ে না।’
আজকের ম্যাচে প্রথমার্ধে অধিনায়ক লিওনেল মেসির দুর্দান্ত এক কর্নার কিক থেকে চমৎকার হেডে গোল করে আর্জেন্টিনাকে প্রথমে এগিয়ে নেন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। ম্যাক অ্যালিস্টারের ভূয়সী প্রশংসা করে কোচ বলেন, ‘অ্যালেক্সিস একজন অসাধারণ ফুটবলার। সে দলের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে এবং এই সব প্রশংসাই তার প্রাপ্য।’ তবে ম্যাচের ৬৭ মিনিটে সুইজারল্যান্ড গোল করে সমতায় ফিরলে লড়াই আরও জমে ওঠে। ৯০ মিনিট শেষে খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে আর্জেন্টিনার দুই ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ এবং লাউতারো মার্তিনেজ গোল করে দলের নাটকীয় ও ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন।
প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ডের লড়াকু ফুটবলের প্রশংসা করে আর্জেন্টাইন বস বলেন, ‘তারা শারীরিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং খুবই কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল। ম্যান-টু-ম্যান মার্কিংয়ের কারণে ওয়ান-অন-ওয়ান লড়াইয়ে জেতা আমাদের জন্য খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল। মাঠের বিভিন্ন পজিশনে তারা আমাদের বেশ ভুগিয়েছে। তবে আমাদের বেঞ্চে এমন কিছু দুর্দান্ত খেলোয়াড় আছে, যারা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে। পুরো স্কোয়াডের ওপর আমার এই আস্থাই শেষ পর্যন্ত আমাদের সমাধান এনে দিয়েছে।’
স্কালোনি এই ধারাবাহিক সাফল্যের পুরো কৃতিত্বই খেলোয়াড়দের উৎসর্গ করে বলেন, ‘গত ছয় সপ্তাহ ধরে ছেলেরা আমার প্রতিটা পরিকল্পনার ওপর শতভাগ আস্থা রেখেছে। আমরা একটি নিরেট দল হিসেবে খেলি, একসঙ্গে থাকি এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ থাকি।” এই জয়ের ফলে টানা ষষ্ঠবারের মতো বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন করল আর্জেন্টিনা। এই মাইলফলক প্রসঙ্গে স্কালোনি যোগ করেন, “আগে থেকে বিষয়টি নিয়ে আমি ভাবিনি, তবে এটি অবশ্যই পুরো দেশের জন্য গর্ব করার মতো একটি বড় অর্জন। সেমিফাইনালের টিকিট পেতে হলে কষ্ট করতেই হবে, আর আমরা সেই কঠিন পথ পেরিয়েই আজ এখানে পৌঁছেছি।’