২৫ বছরেই না ফেরার দেশে বিশ্বকাপ খেলা তরুণ ফুটবলার
ফুটবল বিশ্বে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। চলমান বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহাসিক যাত্রার অন্যতম কান্ডারি, ২৫ বছর বয়সী তরুণ মিডফিল্ডার জেইডেন অ্যাডামস মারা গেছেন। দেশটির ক্রীড়া মন্ত্রী গায়তন ম্যাকেঞ্জি তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তবে এই উদীয়মান তারকার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও এএফপি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শোকবার্তায় দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়া মন্ত্রী গায়তন ম্যাকেঞ্জি বলেন, ‘বাফানা বাফানা এবং মামেলোদি সানডাউনসের প্রতিভাবান মিডফিল্ডার জেইডেন অ্যাডামসের চলে যাওয়ার খবরে আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকান ফুটবল তার অন্যতম উজ্জ্বল এক ভবিষ্যৎ প্রতিভাকে হারাল। তাঁর পরিবার, সতীর্থ এবং লাখো সমর্থকের সঙ্গে জাতি হিসেবে আমরাও আজ গভীরভাবে শোকাচ্ছন্ন।’
একাডেমি পর্যায় থেকেই অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে পরিচিত অ্যাডামস খুব দ্রুতই জাতীয় দলের মাঝমাঠের চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছিলেন। লকার রুম ও মাঠের বাইরে শান্ত স্বভাবের এই ফুটবলারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে কেপ টাউনের স্কটসচে ক্লোফে অবস্থিত তার নিজ বাসভবন থেকে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ইতোমধ্যে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। কেপ টাউন পুলিশের মুখপাত্র ফন উইক এএফপিকে জানিয়েছেন, মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তাঁরা ঘটনার পারিপার্শ্বিক সমস্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন।
দীর্ঘ ১৬ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপে ফিরে দক্ষিণ আফ্রিকা এবারই প্রথম নকআউট পর্বে ওঠার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করে। দলটির এই অবিস্মরণীয় সাফল্যের পেছনে তরুণ মিডফিল্ডার অ্যাডামসের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। চলতি আসরে বাফানা বাফানার হয়ে তিনি তিনটি ম্যাচে মাঠে নামেন। এর মধ্যে মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ গোলে পরাজয় এবং চেকিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে সমতার ম্যাচে তিনি শুরুর একাদশে খেলেছিলেন।
পরবর্তীতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলের ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচেও বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তাঁর এমন অকাল ও রহস্যজনক মৃত্যুতে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়াঙ্গনসহ বিশ্ব ফুটবলে স্তব্ধতা নেমে এসেছে।