ইংল্যান্ড-নরওয়ের ম্যাচে হানা দিল প্রাণঘাতী ভাইরাস
চলতি ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠার প্রাণপণ লড়াইয়ে আজ রাতে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। তবে ম্যাচ মাঠে গড়াব কিনা সেটা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। কেননা এই হাই ভোল্টেজ এই ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে উভয় শিবিরে হানা দিয়েছে প্রাণঘাতী ভাইরাস। যে কারণে মাঠে নামা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে হালান্ড-হ্যারি কেইনদের। শনিবার (১১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর কথা রয়েছে।
স্প্যানিশ ক্রীড়া মাধ্যম ‘এএস স্পোর্টস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে অনুষ্ঠেয় এই মেগা ম্যাচের আগে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র গরম আর স্টেডিয়ামের অতিরিক্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এয়ার কন্ডিশনিং) ব্যবস্থা। ঘামভেজা শরীর নিয়ে বারবার তীব্র গরম থেকে কনকনে ঠান্ডা পরিবেশে যাতায়াত করার ফলে দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সর্দি-কাশি এবং ফ্লুজনিত ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
ইংল্যান্ড শিবিরে মাঝমাঠের প্রধান ভরসা ডেকলান রাইস গত কয়েক দিন ধরে অনুশীলনে নামতে পারেননি। দলের অন্য খেলোয়াড়দের মাঝে যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়, সে কারণে তাঁকে স্কোয়াড থেকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। ভাইরাসের পাশাপাশি রাইস হ্যামস্ট্রিং ও কোমরের নিচের অংশের চোটেও ভুগছেন। তবে নকআউটের এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের গুরুত্ব বিবেচনা করে শেষ মুহূর্তে রাইসকে মাঠে দেখা যেতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, নরওয়ে শিবিরের অবস্থা আরও বেশি উদ্বেগজনক। দলটির প্রধান কোচ স্টলে সলবাক্কেন জানিয়েছেন, খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফসহ তাঁদের বহরের প্রায় ৫০ জন সদস্য কাশি, জ্বর ও চরম ক্লান্তির মতো উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন। ভাইরাসের কারণে স্ট্রান্ড লারসেন ও পেডারসেনকে ইতিমধ্যে দলের বাইরে ছিটকে যেতে হয়েছে।
তবে দলের এত বড় সংকটের পরও বেশ ইতিবাচক নরওয়েজিয়ান অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। ম্যাচ ঘরে আনার হুংকার দিয়ে ওডেগার্ড বলেন, ‘বারবার গরম পরিবেশ থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে যাতায়াত করলে এমন শারীরিক সমস্যা হওয়াটা স্বাভাবিক। বিষয়টি খুব বেশি গুরুতর নয়। কয়েকজন কিছুটা অসুস্থ বোধ করলেও বড় কোনো সমস্যা নেই। আশা করছি, ম্যাচের আগেই আমরা সবাই পুরোপুরি ফিট হয়ে মাঠে নামতে পারব।’