১১ জুলাই ২০২৬, ১৫:১০

২০১৪ সালের হারের প্রতিশোধ নাকি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

কোলাজ ছবি   © টিডিসি ফটো

২০১৪ বিশ্বকাপের সেই দুঃসহ স্মৃতি কি এবার ফিরিয়ে দিতে পারবে সুইজারল্যান্ড, নাকি আর্জেন্টিনাই আবারও বাধা হয়ে দাঁড়াবে ইউরোপের দলটির সামনে—এমন প্রশ্ন নিয়েই জমে উঠেছে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই। তবে ম্যাচটিকে পুরোনো হারের প্রতিশোধ হিসেবে দেখছেন না সুইজারল্যান্ডের অধিনায়ক গ্রানিত জাকা। বরং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মতো ক্ষুধা ও জয়ের মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামতে চান তিনি।

২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে শনিবার রাত ১০টায় কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সুইজারল্যান্ডের অধিনায়ক জাকা। সেখানে আর্জেন্টিনার প্রতিদ্বন্দ্বিতার মানসিকতা ও ধারাবাহিক সাফল্যের প্রশংসা করেন তিনি।

সুইজারল্যান্ডের ৩৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার মনে করেন, লাতিন আমেরিকার দলগুলোর মধ্যে যে লড়াকু মানসিকতা দেখা যায়, সেটিই তাদের বড় শক্তি। আর সেই জায়গায় আর্জেন্টিনাকে উদাহরণ হিসেবে দেখছেন তিনি।

জাকা বলেন, ‘আমি লাতিন দলগুলোর বড় ভক্ত, কারণ তাদের মানসিকতা অসাধারণ। তারা অনুশীলনেও নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দেয়। আগামীকাল আমাদেরও ঠিক এমন ক্ষুধা নিয়ে মাঠে নামতে হবে। ম্যাচ জেতার জন্য আমাদের মধ্যে সেই তাড়না থাকতে হবে এবং আর্জেন্টিনা এ ক্ষেত্রে একটি ভালো উদাহরণ।’

তবে আর্জেন্টিনার প্রশংসা করলেও নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী জাকা। ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মাটিতে আর্জেন্টিনার কাছে হারের ঘটনা মনে থাকলেও এবারের ম্যাচকে প্রতিশোধের লড়াই হিসেবে দেখছেন না তিনি।

২০১৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল সুইজারল্যান্ড। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দল গোল করতে পারেনি। এরপর অতিরিক্ত সময়ের ১১৮তম মিনিটে অ্যাঞ্জেল দি মারিয়ার গোলে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

সেই ম্যাচের স্মৃতি মনে করে জাকা বলেন, ‘২০১৪ সালে আমি আমার প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলাম এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই ম্যাচটি আমার জন্য খুব আনন্দের মুহূর্ত ছিল না। আমরা ভালো খেলেছিলাম, কিন্তু ১১৮তম মিনিটে গোল হজম করেছিলাম। আমাদেরই গোল করা উচিত ছিল। তবে এবার আমি মনে করি আমরা জিতব। এটি নতুন একটি প্রজন্ম এবং সুইজারল্যান্ডের ফুটবল অনেক উন্নতি করেছে।’

এবারের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকে কঠিন প্রতিপক্ষ মানলেও সুইজারল্যান্ডকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন জাকা। তার মতে, দলের অনেক খেলোয়াড় বিশ্বের শীর্ষ লিগে খেলছেন এবং বড় ম্যাচে নিজেদের প্রমাণ করার সামর্থ্য তাদের রয়েছে।

সান্ডারল্যান্ডের হয়ে খেলা এই অভিজ্ঞ ফুটবলার বলেন, ‘আগামীকাল আমাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ম্যাচের জন্য সঠিক মানসিকতা ধরে রাখা। অনেকেই সুইজারল্যান্ডের শক্তির কথা বলছে না, কিন্তু আমরা সবাই বিশ্বের শীর্ষ লিগগুলোতে খেলি এবং আমরা সেটা মাঠে প্রমাণ করব।’

আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের এই লড়াই শুধু সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ নয়, দুই দলের জন্যই নিজেদের সামর্থ্যের পরীক্ষা। এই ম্যাচের জয়ী দল শেষ চারে মুখোমুখি হবে নরওয়ে ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনালের বিজয়ীর।

তবে বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি নিয়েও গর্বিত জাকা। ৭২ বছর পর সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়াকে বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।

সুইজারল্যান্ড অধিনায়ক বলেন, ‘এখানে খেলতে পারা আমাদের জন্য একটি গর্বের বিষয়। এটি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। ৭২ বছর পর সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলছে এবং প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন—এটা আমাকে গর্বিত করে। তবে আমরা শুধু মাঠে থাকার জন্য এখানে আসিনি। আমরা নিজেদের সেরাটা দিতে এসেছি।’

এখন অপেক্ষা মাঠের লড়াইয়ের। ২০১৪ সালের সেই হারের স্মৃতি ভুলে নতুন ইতিহাস লিখতে পারবে কি না সুইজারল্যান্ড, নাকি আর্জেন্টিনা আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখবে—তার উত্তর মিলবে কানসাস সিটির মাঠেই।