১১ জুলাই ২০২৬, ১৪:৪০

বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিস করায় তারকা ফুটবলার ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি

কলম্বিয়ার ফুটবলার ক্যাম্পাজ   © টিডিসি ফটো

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশা ছাপিয়ে এবার আতঙ্কে কলম্বিয়ার ফুটবল। টাইব্রেকারে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি মিস করার পর জাতীয় দলের মিডফিল্ডার জ্যামিন্টন ক্যাম্পাজ় এবং তাঁর পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে আন্দ্রেস এস্কোবার হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি নতুন করে সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির ফুটবল অঙ্গনে।

২৬ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের পর দেশে ফিরে খুন হয়েছিলেন কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এস্কোবার। কাকতালীয়ভাবে এবারও বিশ্বকাপের মূল আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। সেই প্রেক্ষাপটে ক্যাম্পাজ়কে দেওয়া প্রাণনাশের হুমকি নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এবং কঠোর ভাষায় এর নিন্দা জানিয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার হয়ে খেলেছেন মিডফিল্ডার জ্যামিন্টন ক্যাম্পাজ়। শেষ ষোলোর ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে তার নেওয়া শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই মিসই কলম্বিয়ার বিদায়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ম্যাচের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যাম্পাজ়কে লক্ষ্য করে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা, গালিগালাজ এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ। একপর্যায়ে তাঁর অ্যাকাউন্টে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। শুধু তাঁকেই নয়, তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার সুযোগ বন্ধ করে দেন ক্যাম্পাজ়। এরপরও বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর কাছে হুমকি পৌঁছাতে থাকে। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় দলের সঙ্গে দেশে ফেরেননি তিনি। আপাতত যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

এই ঘটনার পর কলম্বিয়ার ফুটবল কর্তারা তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছেন। ক্যাম্পাজ় এবং তাঁর পরিবারের অবস্থান ও চলাফেরার তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।

ঘটনার পর এক বিবৃতিতে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন বলেছে, ‘দেশের প্রতিনিধিত্ব করার পর কোনও খেলোয়াড় বা তার পরিবারকে হুমকির মুখে পড়তে হবে, এটা কাম্য নয়। ভয় দেখানো ঠিক নয়। ফুটবল সব সময় ঐক্য, শ্রদ্ধা এবং আশার মাধ্যম। কখনই ঘৃণা, ভীতি প্রদর্শন বা হিংসার হতে পারে না। এই ধরনের হুমকি অত্যন্ত নিন্দনীয়।’

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর পেনাল্টি মিসের দায় স্বীকার করে দেশের মানুষের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন ক্যাম্পাজ়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুখ ঢেকে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘ফুটবল অনেক কঠিন সময়ও নিয়ে আসে। প্রিয় কলম্বিয়া, আমরা যেন কখনও নিজেদের সম্মানবোধ না হারাই। আমাদের চিন্তা ভাবনা আলাদা হতে পারে। সকলেই হতাশ এবং দুঃখিত। কিন্তু কোনও আবেগই ঘৃণা বা ভয়ে নিয়ে বেঁচে থাকাকে সমর্থন করে না।’

১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে আত্মঘাতী গোল করেছিলেন আন্দ্রেস এস্কোবার। সেই হারের কারণে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল কলম্বিয়াকে। দেশে ফেরার কিছুদিন পর গুলিতে নিহত হন ২৭ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক ঘটনার সেই স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়ায় কলম্বিয়াকে।

এবার ক্যাম্পাজ়কে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি সেই দুঃসহ অধ্যায়ের কথাই আবার মনে করিয়ে দিয়েছে। তাই কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছেন না দেশটির ফুটবল কর্মকর্তারা। তাঁদের লক্ষ্য, আর যেন কোনো ফুটবলারের ভাগ্যে আন্দ্রেস এস্কোবারের মতো পরিণতি না ঘটে।