১১ জুলাই ২০২৬, ১৪:২৬

নকআউট পর্বে দুই ম্যাচে ৪ গোল হজম, রক্ষণ নিয়ে চিন্তিত আর্জেন্টিনা

রোমেরো ও লিসান্দ্র মার্তিনেজ   © টিডিসি ফটো

বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এগিয়ে চলা আর্জেন্টিনার সামনে এখন নতুন চিন্তার নাম রক্ষণভাগ। নকআউট পর্বে উঠতেই গোল হজমের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে নিজেদের রক্ষণ নিয়ে সতর্ক বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

শনিবার অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। তবে তার আগে দলের ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো জানিয়েছেন, শেষ দুই ম্যাচে চার গোল হজমের বিষয়টি তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। দ্রুত এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে চান তারা।

শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে রোমেরো বলেন, ‘আমরা ভালো করছি, তবে অবশ্যই কিছু জায়গায় উন্নতির প্রয়োজন আছে। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে আমরা চারটি গোল হজম করেছি। গোল খাওয়ার বিষয়টি আমাদের বিরক্ত করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর বাইরে আমরা সবসময় দলের জন্য প্রস্তুত থাকি। নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি এবং কোচের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করি।’

গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার রক্ষণ ছিল বেশ শক্তিশালী। আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে কোনো গোল হজম করেনি তারা। জর্ডানের বিপক্ষে মাত্র একটি গোল পেয়েছিল প্রতিপক্ষ। কিন্তু নকআউট পর্বে পা রাখার পর থেকেই রক্ষণভাগের কিছু দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

রাউন্ড অফ-৩২ এর ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলের জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। এরপর শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে একপর্যায়ে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে তারা। শেষ পর্যন্ত এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোনো ম্যাচে পিছিয়ে পড়েছিল তারা। ম্যাচের ১৫তম মিনিটেই গোল হজম করতে হয় তাদের। পরে রোমেরোর গোলে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ তৈরি হয়।

এর আগে কেপ ভার্দের বিপক্ষে জয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। অতিরিক্ত সময়ে তার করা গোলেই জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব ও শেষ ষোলোর ম্যাচ মিলিয়ে মাত্র তিনটি গোল হজম করেছিল আর্জেন্টিনা। তবে এবার নকআউট পর্বে ওঠার পর দুই ম্যাচেই চার গোল খাওয়ায় রক্ষণ নিয়ে বাড়তি ভাবতে হচ্ছে দলটির কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের।

রোমেরোর পাশাপাশি দলের আরেক ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজও স্বীকার করেছেন, গোল হজমের বিষয়টি তাদের পছন্দ নয়। তবে নিজেদের মনোযোগ বাড়িয়ে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তিনি।

লিসান্দ্রো বলেন, ‘আমরা গোল হজম করতে পছন্দ করি না। আমাদের অবশ্যই আরও একটু বেশি মনোযোগী হতে হবে। আমার মনে হয়, আরও ভালো মনোযোগ ধরে রাখতে পারলে আমরা এসব গোল এড়াতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা খেলারই অংশ। ভালো হয়েছে যে বিষয়টি এখনই ঘটছে। এতে আমরা আরও সতর্ক হতে পারব, মাটিতে পা রেখে খেলতে পারব এবং প্রতিপক্ষের গোলের সুযোগগুলো ঠেকাতে পারব।’

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল নিয়ে সতর্ক আর্জেন্টিনা। লিসান্দ্রো মনে করছেন, ইউরোপের দলটি মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ নয়।

তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য প্রতিটি ম্যাচই কঠিন ছিল এবং আগামীকালও খুব কঠিন একটি ম্যাচ হবে। সুইজারল্যান্ড কলম্বিয়াকে কোনোভাবেই সহজে খেলতে দেয়নি। আমার মতে, তারা পুরো ম্যাচেই নিয়ন্ত্রণে ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি দারুণ একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে। তাদের দলে অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে এবং আমরা প্রস্তুত।’

সুইজারল্যান্ড নিয়মিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা গোলশূন্য ড্র করার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে কলম্বিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। শনিবারের ম্যাচে জয়ী দল সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও নরওয়ের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনালের বিজয়ীর।

এদিকে, বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা দুই আসরে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে আছে আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে এবারের বিশ্বকাপটি লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় দলটির জন্য প্রতিটি ম্যাচই বাড়তি গুরুত্ব বহন করছে।