ফিফা থেকে কত টাকা পাচ্ছে ব্রাজিল
২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা ব্রাজিল বিদায় নিয়েছে শেষ ষোলো থেকেই। তবে মাঠের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পরও ফিফার আর্থিক পুরস্কার থেকে বড় অঙ্কের অর্থ পাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপে ৯ম থেকে ১৬তম স্থানের মধ্যে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করায় ব্রাজিল পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৯৫ কোটি টাকা।
২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ফিফার নির্ধারিত পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী, পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ব্রাজিলের জন্য এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১৬তম স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করায় ৯ম থেকে ১৬তম স্থানে থাকা দলগুলোর জন্য নির্ধারিত অর্থই পাবে কার্লো আনচেলত্তির দল।
ফিফার এবারের বিশ্বকাপ পুরস্কার তহবিলের মোট পরিমাণ ৮৭১ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৭০৩ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৮ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা দলগুলোর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বিতরণ করা হবে। বাকি ১৬৮ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা দলগুলোর অবস্থান বা পারফরম্যান্স বিবেচনা ছাড়াই দেওয়া হবে।
২০২৬ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৬২২ কোটি টাকা। রানার্সআপ দল পাবে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা প্রায় ৪১৫ কোটি টাকা।
তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে ৩ কোটি ডলার বা প্রায় ৩৬৬ কোটি টাকা। চতুর্থ স্থান পাওয়া দলের জন্য বরাদ্দ ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা প্রায় ৩৪২ কোটি টাকা।
এছাড়া কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা ৫ম থেকে ৮ম স্থানের দলগুলো পাবে ২ কোটি ডলার বা প্রায় ২৪৪ কোটি টাকা। ৯ম থেকে ১৬তম স্থানে থাকা দলগুলোর জন্য বরাদ্দ ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৯৫ কোটি টাকা। ১৭তম থেকে ৩২তম স্থানের দলগুলো পাবে ১ কোটি ২০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৪৬ কোটি টাকা। আর ৩৩তম থেকে ৪৮তম স্থানে থাকা দলগুলো পাবে ১ কোটি ডলার বা প্রায় ১২২ কোটি টাকা।
এর বাইরে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য প্রতিটি দলই নির্দিষ্ট অর্থ পাবে। অংশগ্রহণ ফি হিসেবে প্রতিটি দেশ পাবে ১ কোটি ডলার বা প্রায় ১২২ কোটি টাকা। পাশাপাশি প্রস্তুতি ভাতা হিসেবে দেওয়া হবে ২৫ লাখ ডলার বা প্রায় ৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
এছাড়া ফিফার পক্ষ থেকে অতিরিক্ত দলীয় অনুদান হিসেবে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি বা প্রায় ১৯৫ কোটি টাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই অর্থ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর প্রতিনিধি দলের ব্যয়, ভ্রমণ, লজিস্টিকস, প্রশাসনিক খরচ এবং অতিরিক্ত টিকিট ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করবে।
এদিকে হেক্সা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে নামা ব্রাজিল শেষ পর্যন্ত শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে। নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে সেলেসাওরা। এর ফলে বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষাও আরও দীর্ঘ হয়েছে। আগামী বিশ্বকাপের সময় ব্রাজিলের শিরোপাখরা দাঁড়াবে ২৮ বছরে।
দ্য অ্যাথলেটিকের প্রকাশিত এক মূল্যায়নে ব্রাজিলকে ১৬তম স্থানে রাখা হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের দল চূড়ান্ত হওয়ার পর অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনে দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, এই প্রতিপক্ষ এখনো ব্রাজিলের জন্য অস্বস্তির কারণ। দুই দলের পাঁচবারের সাক্ষাতে একবারও জয় পায়নি সেলেসাওরা।
নেইমারের পারফরম্যান্স নিয়েও মন্তব্য করেছে দ্য অ্যাথলেটিক। প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যাচের শেষ দিকে মাঠে নামেন নেইমার এবং যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করেন। তবে ম্যাচ শেষে গোলরক্ষক ওরইয়ান নাইল্যান্ডের সঙ্গে তার তর্ক, মার্টিন ওডেগার্ডের সঙ্গে উত্তেজনাকর মুহূর্ত এবং শেষ বাঁশির পর তার কান্নার দৃশ্যই বেশি আলোচনায় আসে।
দ্য অ্যাথলেটিকের র্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলের ওপরে রয়েছে প্যারাগুয়ে, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কানাডা ও কেপ ভার্দের মতো দল। বিশেষ করে কেপ ভার্দের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছে সংবাদমাধ্যমটি। দলটি স্পেনের সঙ্গে ড্র করেছে, গ্রুপ পর্ব থেকেই উরুগুয়েকে বিদায় করেছে এবং শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও ভালো লড়াই করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ১১তম স্থান ছিল তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ফলাফল। এর আগে ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপেও একই অবস্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করেছিল তারা।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে খারাপ ফল এসেছিল ১৯৩৪ সালে। ইতালিতে অনুষ্ঠিত ওই আসরে সরাসরি নকআউট পর্বে খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচেই স্পেনের কাছে ৩-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল সেলেসাওরা। ওই আসরে ১৪তম স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করেছিল তারা।