ফ্রান্সের জয়ে বড় সুখবর পেল ব্রাজিল
বিশ্বকাপ থেকে আগেই বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ফ্রান্সের জয় স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য। এই জয়ের ফলে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলকে টপকে যাওয়ার সুযোগ হারিয়েছে মরক্কো।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। এই ফলের প্রভাব পড়েছে ফিফার সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়েও। মরক্কো জিতলে বা সেমিফাইনালে উঠতে পারলে র্যাঙ্কিংয়ে অতিরিক্ত ৫০ পয়েন্ট যোগ হতো। সেক্ষেত্রে তারা ব্রাজিলকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেত।
বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলের পয়েন্ট ১৮০৪.৯২। পাঁচ নম্বরে থাকা সেলেসাওদের ঠিক নিচেই রয়েছে মরক্কো, তাদের পয়েন্ট ১৮০৩.৯৯। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে হারের কারণে ব্রাজিলের অবস্থান আপাতত নিরাপদ থাকল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। তৃতীয় মিনিটেই কিলিয়ান এমবাপ্পের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক বোনো। কিছুক্ষণ পর দায়ো উপামেকানোর হেডও রুখে দেন তিনি।
অন্যদিকে মরক্কো শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশল নেয়। ডিফেন্ডার ও মিডফিল্ডারদের মধ্যে ছোট ছোট পাস খেলেই ম্যাচের গতি কমানোর চেষ্টা করে তারা।
ফ্রান্স প্রথম বড় সুযোগ পায় একটি পাল্টা আক্রমণ থেকে। দোয়ে বল কেড়ে নিয়ে মাইকেল ওলিসেকে পাস দেন। ওলিসে এমবাপ্পেকে বল বাড়ালে মাজরাউই তাকে পেনাল্টি বক্সের ভেতরে ফাউল করেন। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান এবং ভিএআরও সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
তবে পেনাল্টি নেওয়ার আগে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় এমবাপ্পেকে। পরে তিনি জানান, এই বিরতিতে তার মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ডান কোণে নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন বোনো।
বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে ফ্রান্স। দ্বিতীয়ার্ধের ১৪ মিনিটে দোয়ের পাস থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের দারুণ বাঁকানো শটে গোল করেন এমবাপ্পে। গোলের আগে হ্যান্ডবলের অভিযোগ তুলেছিল মরক্কোর খেলোয়াড়রা। তবে ভিএআর পরীক্ষা করে গোলের বৈধতা নিশ্চিত করে।
২০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। মাঝমাঠ থেকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে এসে নিচু শটে গোল করেন তিনি। বোনো বল স্পর্শ করলেও জাল কাঁপা ঠেকাতে পারেননি।
দুই গোল হজম করার পর মরক্কো আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায়। ৩৬ মিনিটে এল ওয়াহদি বাঁ দিক দিয়ে দারুণ দৌড়ে ফাউল আদায় করেন। ফ্রি-কিক থেকে আশরাফ হাকিমি বল ভাসিয়ে দিলেও কেউ শেষ স্পর্শ দিতে পারেননি।
শেষ দিকে মরক্কো চাপ তৈরি করলেও ফ্রান্স অভিজ্ঞতার সঙ্গে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করে জয় নিশ্চিত করে। দ্বিতীয়ার্ধের ৩১ মিনিটে গোড়ালিতে আঘাত পেয়ে এমবাপ্পে মাঠ ছাড়েন। তার বদলে মাঠে নামেন জ্যঁ-ফিলিপ মাতেতা।
এই জয়ের ফলে শুধু সেমিফাইনালেই জায়গা করে নেয়নি ফ্রান্স, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলের অবস্থানও আপাতত অক্ষুণ্ন রাখতে পরোক্ষ ভূমিকা রেখেছে দিদিয়ের দেশমের দল।