১০ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৬

এমবাপেকে দলে টানার গোপন মিটিংয়ের কথা ফাঁস করলেন ক্লপ

এমবাপে ও ক্লপ  © সম্পাদিত ছবি

বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জয়ের পর কিলিয়ান এমবাপেকে ঘিরে নতুন এক গোপন গল্প সামনে আনলেন লিভারপুলের সাবেক কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। ২০১৭ সালে এমবাপ্পেকে লিভারপুলে নেওয়ার জন্য আকাশে উড়ন্ত একটি ব্যক্তিগত বিমানে গোপন বৈঠক করেছিলেন বলে জানিয়েছেন এই জার্মান কোচ। তবে সেই চেষ্টাও শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।

ফ্রান্সের মরক্কোর বিপক্ষে জয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের ফক্সবরো স্টেডিয়ামে ম্যাজেন্টা টিভির সম্প্রচারের দায়িত্ব পালন করছিলেন ক্লপ। ম্যাচ শেষে মাঠে এমবাপ্পের সঙ্গে তার আন্তরিক শুভেচ্ছা বিনিময় নজর কাড়ে। এর আগেই তিনি প্রকাশ করেন, কীভাবে একসময় ফরাসি এই তারকাকে লিভারপুলে আনার চেষ্টা করেছিলেন।

ক্লপ জানান, ২০১৭ সালে মোনাকো ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এমবাপ্পে। ইউরোপের বড় বড় ক্লাব তাকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী ছিল। লিভারপুলও সেই দৌড়ে ছিল এবং এমবাপ্পেকে রাজি করানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তৎকালীন কোচ ক্লপকে।

গোপনীয়তা বজায় রাখতে পুরো বৈঠকের আয়োজন করা হয় ব্যক্তিগত বিমানে। ইংল্যান্ডের ব্ল্যাকপুল থেকে ফ্রান্সের নিস শহরে উড়ে যায় বিমানটি। গণমাধ্যমের নজর এড়াতেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তখন অপ্রাপ্তবয়স্ক এমবাপ্পে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিমানে ওঠেন।

ক্লপ জানান, মাটিতে কোথাও বৈঠক না করে তারা পুরো আলোচনা করেছিলেন উড়ন্ত বিমানের ভেতরেই।

এই স্মৃতি তুলে ধরে ক্লপ বলেন, ‘আমরা আকাশে চক্কর দিচ্ছিলাম এবং দারুণ খাবার খেয়েছিলাম। কেউ যেন আমাদের দেখতে না পারে, সে কারণেই এমনটা করা হয়েছিল।’

হাস্যরসের সুরে তিনি আরও বলেন, ‘এটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ব্যয়বহুল না-হওয়া ট্রান্সফার।’

শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পে লিভারপুলের প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। তিনি ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইনে (পিএসজি) যোগ দেন। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই ক্লপের।

তিনি বলেন, ‘সবকিছুই দারুণ ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে প্যারিসেই চলে গেল।’

এমবাপ্পে ছাড়াও বর্তমান ফ্রান্স দলের আরও দুই ফুটবলারকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ক্লপ। তিনি জানান, উসমান দেম্বেলে ও আদ্রিয়েন রাবিওর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছিল।

দেম্বেলেকে তিনি দলে নিতে চেয়েছিলেন, যখন এই উইঙ্গার ফরাসি ক্লাব রেঁ-এ খেলতেন। কিন্তু সেই আলোচনা বেশিদূর এগোয়নি।

এ বিষয়ে ক্লপ বলেন, ‘দেম্বেলেকে দেখে মনে হয়েছিল, সে যেন জানেই না আমরা কারা। এরপর আমরা আর এগোইনি।’

সেই সফরের একটি মজার স্মৃতিও শোনান ক্লপ। তিনি বলেন, বৈঠকের সময় তার মোবাইল ফোন হাত থেকে পড়ে ভেঙে গিয়েছিল। সেটিই ছিল সেই সফর থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় ‘অর্জন’।