আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে বড় সুখবর পেল সুইজারল্যান্ড
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে স্বস্তির খবর পেয়েছে সুইজারল্যান্ড। চোটের কারণে শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলতে না পারা দলের তারকা ফরোয়ার্ড জোহান মানজাম্বি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাকে ঘিরে আবারও আশার আলো দেখছে সুইস শিবির। যদিও এখনই তার খেলা নিশ্চিত নয়, তবু কোচিং স্টাফ মনে করছে তিনি গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পেতে পারেন।
শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় কানসাস সিটিতে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড। ম্যাচটিকে সামনে রেখে সুইস দলের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় এখন মানজাম্বির ফিটনেস। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি মিশরের বিপক্ষে জয় পাওয়া দলের মূল কাঠামো ধরে রাখার পরিকল্পনা করছেন।
ফ্রাইবুর্গের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়ে ইউরোপের অন্যতম আলোচিত তরুণ ফুটবলার হয়ে উঠেছেন মানজাম্বি। আগামী মৌসুমে ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসলে তার যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও জোরালো। এমন সময় বিশ্বকাপে তার হাঁটুর চোট সুইজারল্যান্ডের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে।
কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে শেষ অনুশীলনে হাঁটুতে চোট পান মানজাম্বি। এরপর থেকেই তিনি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। চিকিৎসার পাশাপাশি তার শারীরিক অবস্থারও উন্নতি হচ্ছে। তবে সুইজারল্যান্ডের প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিন কোনো ঝুঁকি নিতে চান না।
এ বিষয়ে ইয়াকিন বলেন, 'চিকিৎসাগত দৃষ্টিকোণ থেকে যদি তা যৌক্তিক হয়, তবেই সে খেলবে।'
সাম্প্রতিক অনুশীলনে মানজাম্বিকে হাঁটুতে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় দেখা গেছে। তিনি সতীর্থদের থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন এবং হাতে মোবাইল ফোন নিয়ে কিছুটা কষ্ট করে হাঁটছিলেন। এই দৃশ্য একদিকে যেমন তার চোটের বাস্তবতা তুলে ধরেছে, অন্যদিকে ধীরে ধীরে অনুশীলনে ফেরাও সুইস শিবিরকে আশাবাদী করে তুলেছে।
তবে শেষ পর্যন্ত যদি তিনি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে না পারেন, তাহলে তার জায়গায় জিব্রিল সোকে নামানোর সম্ভাবনা রয়েছে। কলম্বিয়ার বিপক্ষে মানজাম্বির অনুপস্থিতিতে আর্দন ইয়াশারি একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় প্রথমার্ধ শেষে তাকে তুলে নেন কোচ।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে কার্যকর আক্রমণভাগের খেলোয়াড় মানজাম্বি। তিনি তিনটি গোল করেছেন। এর মধ্যে বসনিয়ার বিপক্ষে দুটি এবং কানাডার বিপক্ষে একটি গোল রয়েছে। পাশাপাশি কানাডা ও আলজেরিয়ার বিপক্ষে একটি করে মোট দুটি অ্যাসিস্টও করেছেন।
বিশ্বকাপের শুরুতে তিনি নিয়মিত একাদশে ছিলেন না। কাতার ও বসনিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। তবে গ্রুপ বি-র তৃতীয় ম্যাচ থেকে নিজের জায়গা পাকা করে নেন। এরপর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে সুইজারল্যান্ডের আক্রমণের সবচেয়ে বড় ভরসায় পরিণত হন। কিন্তু কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে হাঁটুর চোট পাওয়ায় সেই ধারাবাহিকতায় সাময়িক বিরতি পড়ে।