০৯ জুলাই ২০২৬, ১৪:১৫

‘অভিশাপ’ মুক্ত হলো আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা ফুটবল দল   © টিডিসি ফটো

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আনন্দের মধ্যেই আর্জেন্টিনার জন্য এলো আরেকটি আলোচিত খবর। মিসরের বিপক্ষে জয়ের পর ফিফার লাইভ র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে লিওনেল স্কালোনির দল। আর এতেই বিশ্বকাপকে ঘিরে দীর্ঘদিনের একটি আলোচিত ‘অভিশাপ’ থেকে যেন মুক্তি পেল আলবিসেলেস্তেরা।

১৯৯২ সালে ফিফা র‍্যাঙ্কিং চালুর পর থেকে বিশ্বকাপে এক নম্বর অবস্থানে থাকা কোনো দলই শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি। এই পরিসংখ্যানকে অনেকেই ‘ফিফা র‍্যাঙ্কিং অভিশাপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে আর্জেন্টিনা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠলেও, নকআউট পর্বে এসে সেই অবস্থান হারিয়েছে তারা।

শেষ ষোলোতে মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও সেই জয় শীর্ষস্থান ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট হয়নি। একই সময়ে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে মূল্যবান রেটিং পয়েন্ট অর্জন করেছে ফ্রান্স। ফলে সর্বশেষ লাইভ র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৯২৫.৮৬ পয়েন্ট নিয়ে আবারও শীর্ষে উঠে গেছে ফরাসিরা। আর্জেন্টিনার পয়েন্ট এখন ১৯২৫.১৫।

দুই দলের ব্যবধান খুবই সামান্য। বিশ্বকাপ চলাকালীন প্রতিটি ম্যাচের ফলাফলের ভিত্তিতে ফিফার রেটিং নিয়মিত হালনাগাদ হচ্ছে। তাই টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে এই অবস্থান আবারও পরিবর্তন হতে পারে।

কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। অন্যদিকে ফ্রান্স খেলবে মরক্কোর বিপক্ষে। দুই দলই এখনও শিরোপার লড়াইয়ে থাকায় র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান নিয়েও প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের ঠিক আগে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছিল। প্রস্তুতি ম্যাচে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডকে হারানোর পাশাপাশি ফ্রান্স ও স্পেনের পয়েন্ট হারানোর সুযোগ কাজে লাগিয়েই তারা এক নম্বর অবস্থান দখল করে।

ফ্রান্স আইভরি কোস্টের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল। অন্যদিকে স্পেন ইরাকের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করায় দুই দলই রেটিং পয়েন্ট হারায়। সেই সুযোগে শীর্ষে উঠে আসে আর্জেন্টিনা।

তবে নকআউট পর্বে এসে আবার পাল্টে গেছে চিত্র। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয়ের সুবাদে ফ্রান্স শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে, আর আর্জেন্টিনা নেমে গেছে দ্বিতীয় স্থানে।

এই পরিবর্তনের পর আবারও আলোচনায় এসেছে বিশ্বকাপের সেই পুরোনো পরিসংখ্যান। ১৯৯২ সালে ফিফা র‍্যাঙ্কিং চালুর পর থেকে বিশ্বকাপ শুরুর সময় এক নম্বর অবস্থানে থাকা কোনো দলই শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিততে পারেনি।

১৯৯৪ বিশ্বকাপে শীর্ষে ছিল জার্মানি। কিন্তু তারা কোয়ার্টার ফাইনালেই বিদায় নেয়। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল।

১৯৯৮ বিশ্বকাপের আগে র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে ছিল ব্রাজিল। কিন্তু ফাইনালে স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে ৩-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে তারা।

২০০২ সালে শীর্ষ র‍্যাঙ্কিং নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যায় ফ্রান্স। অথচ তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। সেই আসরেও চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল।

এই ইতিহাসের কারণে অনেক আর্জেন্টাইন সমর্থক মনে করছেন, শীর্ষস্থান হারানো হয়তো তাদের জন্য খারাপ খবর নয়। বরং বিশ্বকাপ জয়ের পথে বহুদিনের আলোচিত সেই ‘অভিশাপ’ থেকে মুক্তি পাওয়ার ইঙ্গিতও হতে পারে এটি।