‘এ যেন দিনের আলোতে ডাকাতি’- আজেন্টিনা-মিশরের ম্যাচ নিয়ে হোসে মরিনহো
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয় নিয়ে বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। ম্যাচের বেশ কয়েকটি রেফারিং এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ফুটবলার, সমর্থক ও বিশ্লেষকরা। এই তালিকায় এবার যোগ দিলেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল ও কিংবদন্তি কোচ হোসে মরিনহো। রেফারির পক্ষপাতিত্বের কড়া সমালোচনা করে তিনি এই ম্যাচটিকে রীতিমতো ‘দিনের আলোয় ডাকাতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ইয়াসির ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিশর। তবে শেষ ১৩ মিনিটে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি এবং অতিরিক্ত সময়ে এনসো ফার্নান্দেসের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা। তবে মাঠের এই রোমাঞ্চকে ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে ভিএআরের বিতর্কিত সব সিদ্ধান্ত।
ম্যাচে মিশরের একটি গোল বল জালে জড়ানোর পর ভিএআরের হস্তক্ষেপে বাতিল করা হয়। এছাড়া আর্জেন্টিনার প্রথম গোলের সময় অফসাইডের জোরালো সন্দেহ থাকলেও তা পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
রেফারির এমন একপেশে আচরণের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে মরিনহো বলেন, ‘এটা দিনের আলোয় ডাকাতি ছাড়া আর কিছুই নয়। ফুটবল আজ কোন স্তরে গিয়ে পৌঁছাচ্ছে, তা ভাবতেই লজ্জা লাগে। মাঠে যদি সত্যিই কোনো ফাউল হয়ে থাকে, তবে রেফারি সঙ্গে সঙ্গে বাঁশি বাজিয়ে খেলা থামালেন না কেন? খেলা চালিয়ে যেতে দেওয়া হলো, গোলও হয়ে গেল; আর তারপর অতীতে ফিরে গিয়ে গোলটি বাতিল করা হলো! ফাউল হলে সঙ্গে সঙ্গেই খেলা বন্ধ করুন, গোল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার তো কোনো মানে হয় না।’
ভিএআরের দ্বিমুখী নীতির দিকে আঙুল তুলে মরিনহো আরও বলেন, ‘আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো—আর্জেন্টিনার প্রথম গোলটি, যা স্পষ্টতই অফসাইডের খুব কাছাকাছি ছিল, সেটি কেন সমান গুরুত্ব দিয়ে ভিএআরে খতিয়ে দেখা হলো না? কেন মাঠের প্রতিটি ঘটনায় শুধু আর্জেন্টিনাকেই সুবিধা দেওয়া হলো, যেখানে মিশর একই ধরনের বিচার থেকে বঞ্চিত হলো? ভিএআরের মূল উদ্দেশ্য বিভ্রান্তি তৈরি করা নয়, বরং মাঠের ন্যায্যতা নিশ্চিত করা। কিন্তু আজকের ম্যাচে মনে হয়েছে, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই আগে থেকে আর্জেন্টিনার পক্ষে ঠিক করা ছিল। ফুটবল এর চেয়ে অনেক ভালো কিছু প্রাপ্য।’
এই জয়ে আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখলেও, মরিনিওর মতো হাই-প্রোফাইল কোচের এমন বিস্ফোরক মন্তব্য বিশ্বকাপের রেফারিংয়ের মান এবং ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।