যে কারণে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলটি ঐতিহাসিক
একটি গোলেই বদলে গেল দুটি ইতিহাস। মিসরের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের জয়সূচক হেডে আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন এনজো ফার্নান্দেজ। একই সঙ্গে সেই গোলটি হয়ে গেছে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসের ৩ হাজারতম গোল। ফলে নাটকীয় এই জয় শুধু বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্বপ্নই বাঁচিয়ে রাখেনি, বিশ্বকাপের রেকর্ডবুকেও স্থায়ী জায়গা করে দিয়েছে আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডারকে।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের হেড থেকে আসে দলের জয়সূচক গোল। পরে নিশ্চিত হয়, সেটিই বিশ্বকাপ ইতিহাসের ৩ হাজারতম গোল।
এই গোলের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা শুধু কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটই নিশ্চিত করেনি, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করেছে। প্রতীকী সংখ্যার গোলের ইতিহাসে এর আগেও আর্জেন্টিনার নাম রয়েছে। ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে ক্লদিও ক্যানিজিয়া করেছিলেন বিশ্বকাপের ১ হাজার ৫০০তম গোল। সেই গোলে অ্যাসিস্ট করেছিলেন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে আরও কয়েকজন ফুটবলার এমন বিশেষ মাইলফলকের অংশ হয়েছেন। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে পানামার বিপক্ষে তিউনিসিয়ার বেন ইউসেফ করেন ২ হাজার ৫০০তম গোল। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সুইডেনের মার্কুস আলব্যাক করেন ২ হাজারতম গোল।
এর আগে ১৯৭৮ সালের আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের রব রেনসেনব্রিঙ্ক করেছিলেন বিশ্বকাপের ১ হাজারতম গোল। আর ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে স্কটল্যান্ডের ববি কলিন্স করেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের ৫০০তম গোল।
তবে এনজো ফার্নান্দেজের গোলটি অন্যগুলোর চেয়ে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এটি এসেছে নকআউট পর্বের জীবন-মরণ ম্যাচে। ম্যাচের একেবারে শেষ সময়ে করা সেই গোলেই মিসরকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা।
ফলে বিশ্বকাপের ৩ হাজারতম গোল এখন শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযানের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত এবং এনজো ফার্নান্দেজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গৌরবময় অর্জনগুলোর একটি হিসেবেও ইতিহাসে জায়গা করে নিল।