বিশ্বকাপে হতশ্রী পারফরম্যান্স মার্তিনেজের, বললেন— ‘আমার সময় আসবেই’
বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের ছায়া হয়ে আছেন এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ। আর্জেন্টিনার জার্সিতে আগের সেই নির্ভরতার প্রতিচ্ছবি এখনও দেখাতে পারেননি বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষক। নকআউট পর্বের দুই ম্যাচে চার গোল হজমের পর সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। তবে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে আত্মসমালোচনা করলেও মার্তিনেজের বিশ্বাস, ‘আমার সময় আসবেই।’
বিশ্বকাপ ২০২৬-এ এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচ খেলেছে আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে প্রথম দুই ম্যাচে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে কোনো গোল হজম করেনি বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে পরের তিন ম্যাচে রক্ষণে কিছুটা দুর্বলতা দেখা গেছে। জর্ডানের বিপক্ষে একটি, কেপ ভার্দের বিপক্ষে দুটি এবং মিসরের বিপক্ষে দুটি গোল হজম করেছে আর্জেন্টিনা।
সব মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচে ১৪ গোল করেছে আর্জেন্টিনা, বিপরীতে পাঁচ গোল খেয়েছে। বিশেষ করে শেষ ষোলোতে কেপ ভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে চার গোল হজমের পর গোলপোস্টের নিচে মার্তিনেজের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে মিসরের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে কোনো অজুহাত দেননি আর্জেন্টিনার এই গোলরক্ষক। বরং নিজের ভুল স্বীকার করে জানিয়েছেন, দলের জন্য আরও বেশি অবদান রাখতে চান তিনি।
শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ের পর আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্তিনেজ। নিজের হতাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২-০ গোলে পিছিয়ে যাওয়ার পর আমার মনে হচ্ছিল, আমি দলকে কোনো সাহায্য করতে পারছি না। এই অনুভূতিটা আমার ভালো লাগে না। আমার মনে হয়, আমার সময় আসবে। আমাকে দলকে আরও অনেক বেশি সাহায্য করতে হবে। তারা অনেক ম্যাচে আমাকে বাঁচিয়েছে, এবার আমার পালা।’
মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে লিওনেল মেসি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। সেই সময় দলের ড্রেসিংরুমের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মার্তিনেজ। তিনি জানান, মেসি নিজেকে দায়ী মনে করলেও দলের জন্য তার অবদান নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
মার্তিনেজ বলেন, ‘বিরতির সময় লিও নিজেকে দায়ী মনে করছিল। কিন্তু সে আমাদের অসংখ্যবার বাঁচিয়েছে। তাই আমাকে আরও ভালোভাবে গোলপোস্ট সামলাতে হবে।’
মিসরের বিপক্ষে ম্যাচটি একসময় আর্জেন্টিনার জন্য বিদায়ের শঙ্কা তৈরি করেছিল। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেই উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মার্তিনেজ।
নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই চোখের পানি আসে, কারণ একটা সময় মনে হয় আপনি বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন এবং যথেষ্ট কিছু করতে পারেননি। আমরা কাউকে হতাশ করতে চাই না। আমরা নিজেদের মতো করে, আর্জেন্টাইন হিসেবে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। ইউরোপিয়ানদের মতো সবকিছু হয়তো আমাদের নেই, কিন্তু আমরা আনন্দ নিয়ে খেলি এবং আরও কিছু দেওয়ার চেষ্টা করি।’
এর আগে কেপ ভার্দের বিপক্ষেও কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। টানা দুই ম্যাচে এমন চাপের অভিজ্ঞতা নিয়ে মার্তিনেজ জানান, গত বিশ্বকাপে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি তাদের।
তিনি বলেন, ‘আমরা ছেলেরা কথা বলছিলাম যে, গত বিশ্বকাপে এমন দুটি ম্যাচ আমাদের খেলতে হয়নি। সামনে যা আসছে, তা উপভোগ করতে হবে। যদি কষ্ট করতে হয়, তাহলে সেটাও করতে হবে। আমার বিশ্বাস, পথে এমন একটি ম্যাচ আসবে যেখানে আমাদের এতটা ভুগতে হবে না।’
মিসরের বিপক্ষে জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একটি প্রতীকী পোস্ট করেন মার্তিনেজ। সেখানে দেখা যায়, একজন চিকিৎসক একজন রোগীর রক্তচাপ মাপছেন। সেই ছবির সঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘শেষ ছবিটা কি আমাদের সবার পরিস্থিতির প্রতিচ্ছবি নয়? এটাই আর্জেন্টিনা।’
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সামনে। সেই লড়াইয়ে এবার নিজের সেরা রূপে ফিরতে চান দিবু মার্তিনেজ। সমালোচনার জবাব দিতে চান মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই।