০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩২

যে ৫ কারণে হারের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা ফুটবল দল   © টিডিসি ফটো

আটলান্টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে একসময় বিদায়ের শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্তে লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্স এবং যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক হেডে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে এই নাটকীয় জয় আড়াল করতে পারেনি দলের বেশ কয়েকটি গুরুতর দুর্বলতা, যা সামনের পথকে কঠিন করে তুলতে পারে।

১. ডেড-বল ডিফেন্সে চরম ব্যর্থতা

আর্জেন্টিনার প্রথম ধাক্কা আসে সেট-পিস থেকে। বক্সে ভেসে আসা ক্রসে ইয়াসের ইব্রাহিম সহজেই হেড করে বল জালে পাঠান। সেই মুহূর্তে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ নিজের মার্কিং হারিয়ে ফেলেন, আর গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজও বল ঠেকানোর সুযোগ পাননি।

সেট-পিস ডিফেন্সে এমন অসতর্কতা শুধু এই ম্যাচেই নয়, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই আর্জেন্টিনার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন ভুলের মূল্য আরও বেশি দিতে হতে পারে।

২. মেসির পেনাল্টি বিভ্রাট

ম্যাচের অন্যতম বড় মোড় ছিল লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিস। প্রথমার্ধে পাওয়া স্পট-কিক কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তার দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস।

পরিসংখ্যান আরও উদ্বেগ বাড়ায়। বিশ্বকাপে নেওয়া আটটি পেনাল্টির মধ্যে চারটিই মিস করেছেন মেসি। তার মতো একজন ফুটবলারের জন্য এমন রেকর্ড অপ্রত্যাশিত। ভবিষ্যতে প্রতিপক্ষ এই দুর্বলতাকে মানসিক চাপ তৈরির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

৩. ট্রানজিশন ডিফেন্ডিংয়ে ভয়াবহ ফাঁকফোকর

মিসরের দ্বিতীয় গোলটি আসে দ্রুতগতির এক দুর্দান্ত কাউন্টার-অ্যাটাক থেকে। মোহামেদ সালাহ, হাসান ও জিকোর গতিময় আক্রমণে মুহূর্তেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় আর্জেন্টিনার রক্ষণ।

মাঝমাঠ থেকে দ্রুত রক্ষণে ফেরার ক্ষেত্রে দলের সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। ট্রানজিশন ডিফেন্সে এই দুর্বলতা দ্রুতগতির প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

৪. ফিনিশিংয়ে চূড়ান্ত অগোছালো ভাব

শুধু রক্ষণ নয়, আক্রমণভাগেও নিজেদের সেরা ছন্দে ছিল না আর্জেন্টিনা। হুলিয়ান আলভারেজ ও এনজো ফার্নান্দেজ একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেন।

বিশেষ করে খুব কাছ থেকে এনজো ফার্নান্দেজের বল বাইরে পাঠানো ছিল বিস্ময়কর। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ পেয়েও গোল করতে না পারা দেখিয়ে দিয়েছে, আক্রমণভাগে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ফিনিশিং—দুই ক্ষেত্রেই আরও ধারালো হতে হবে দলটিকে।

৫. বড় দলের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতার ঘাটতি

টুর্নামেন্টের আগের রাউন্ডগুলোতে তুলনামূলক কম শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলেছে আর্জেন্টিনা। ফলে বড় ম্যাচের প্রয়োজনীয় তীব্রতা ও প্রতিযোগিতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা ঘাটতি চোখে পড়েছে।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে যেমন দলটি ভুগেছিল, তেমনি মিসরের মতো সংগঠিত ও পরিশ্রমী দলের বিপক্ষেও প্রথমার্ধে অনেকটাই নিষ্প্রভ ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রতিপক্ষের চাপ সামলাতে এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে আর্জেন্টিনাকে অস্বস্তিতে দেখা গেছে।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য অভিজ্ঞতার ছাপ রেখেছেন লিওনেল মেসি। মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে একটি অ্যাসিস্ট ও একটি গোল করে ম্যাচে ফেরান দলকে। এরপর যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের হেডে জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটে আর্জেন্টিনা।

তবে এই ম্যাচ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তাও রেখে গেছে। রক্ষণে সংগঠন, সেট-পিসে মনোযোগ, পেনাল্টিতে নির্ভরযোগ্যতা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতায় দ্রুত উন্নতি আনতে না পারলে টুর্নামেন্টের পরের ধাপে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হতে পারে আর্জেন্টিনাকে।