০৮ জুলাই ২০২৬, ০০:১৫

বিতর্কিত গোলে ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা দল  © সংগৃহীত

​ফুটবল যে কেন অনিশ্চয়তার খেলা, তা আবারও প্রমাণ করল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৭০ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে যখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমারের মতো লিওনেল মেসিরও বিদায় প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই বিশ্বমঞ্চ দেখল এক অবিশ্বাস্য, অলৌকিক ও ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন। মিশরের মুখ থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়ে যোগ করা সময়ে ৩-২ ব্যবধানের মহাকাব্যিক জয় উল্লাসে মেতেছে আলবিসেলেস্তেরা।

​আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে এই জয়টি চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে ১৩ বার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে আর্জেন্টিনা ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল, এবং সেই ১৩টি ম্যাচের প্রতিটিতেই তারা হেরে মাঠ ছেড়েছিল। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে এসে পূর্বের সেই কালো ইতিহাসকে দুমড়েমুচড়ে দিল লিওনেল স্কালোনির দল।

​ম্যাচের প্রথমার্ধে ইয়াসের ইব্রাহিম ও দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তফা জিকোর গোলে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। অধিনায়ক লিওনেল মেসি পেনাল্টি মিস করায় বিদায়ের শঙ্কা আরও তীব্র হয়ে উঠেছিল। কিন্তু শেষ ২০ মিনিটে খোলস ছেড়ে বের হয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। একের পর এক আক্রমণে মিশরের রক্ষণভাগকে তছনছ করে দিয়ে প্রথমে সমতায় ফেরে আলবিসেলেস্তেরা।

​এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ—ম্যাচের যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে (৯০+৩ মিনিটে) ইতিহাস গড়ে আর্জেন্টিনা। ডান প্রান্ত থেকে লাউতারো মার্টিনেজের বাড়ানো এক দুর্দান্ত ও নিখুঁত ক্রসে উন্মাদের মতো লাফিয়ে উঠে অসাধারণ এক হেডে বল জালে জড়ান এনজো ফার্নান্দেজ।

​গোলের পর মাঠের নাটকীয়তা রূপ নেয় চরমে। মিশরীয় দল বিল্ড-আপে ফাউলের দাবিতে ভিএআর রিভিউয়ের জোরালো দাবি জানায়। প্রতিবাদ করতে গিয়ে লাল কার্ড দেখেন মিশরের কোচিং স্টাফের এক সদস্য এবং হলুদ কার্ড দেখেন দুর্দান্ত খেলা মিশরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের। তবে সব নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে রেফারি গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখলে বাঁধভাঙা উল্লাসে মাতে আর্জেন্টিনা। ২-০ গোলের নিশ্চিত পরাজয়ের বৃত্ত থেকে ৩-২ ব্যবধানের এই ঐতিহাসিক জয় দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা।