০৭ জুলাই ২০২৬, ১৪:৫৫

পর্দার আড়ালের খেলায় জয় পাওয়া যায় না, ট্রাম্প-ইনফান্তিনোকে দেখিয়ে দিল বেলজিয়াম

বেলজিয়াম ফুটবল দল   © টিডিসি ফটো

বিতর্ক, ক্ষোভ আর চাপ—সবকিছুর জবাব বেলজিয়াম দিল মাঠের ফুটবলে। যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শুধু বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেই ওঠেনি রেড ডেভিলরা, বিতর্কের আবহে তারা যেন দেখিয়ে দিল, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় মাঠে, পর্দার আড়ালের সিদ্ধান্তে নয়। এবার শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী স্পেন।

ম্যাচের আগে কয়েক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনকে খেলানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। বহিষ্কারাদেশ থাকা সত্ত্বেও ফিফার অনুমতিতে মাঠে নামেন তিনি। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল বেলজিয়াম। এমনকি প্রয়োজন হলে ম্যাচ বয়কট বা আনুষ্ঠানিক আপিলের কথাও জানিয়েছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত সব বিতর্কের জবাব দেয় মাঠের পারফরম্যান্সে।

বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া ম্যাচের শুরুতেই বড় চমক দেন। তিনি রোমেলু লুকাকু, জেরেমি ডোকু ও কেভিন ডি ব্রুইনের মতো তারকাদের বেঞ্চে রেখে একাদশ সাজান। সেই সিদ্ধান্তই পরে সফল প্রমাণিত হয়।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বেলজিয়াম। প্রথম মিনিটেই টিমোথি কাস্তানের শট দারুণভাবে ঠেকান যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিস। এরপর একের পর এক আক্রমণে স্বাগতিকদের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করে রেড ডেভিলরা।

৯ মিনিটে ডিফ্লেক্টেড বল পেয়ে চার্লস ডি কেটেলারে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এই গোলের পর ম্যাচ পুরোপুরি বেলজিয়ামের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। তবে প্রথমার্ধের মাঝপথে দলটি বড় ধাক্কাও খায়। মিডফিল্ডার আমাদু ওনানা হাঁটুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। পরে তাকে ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটতে দেখা যায়, যা স্পেন ম্যাচের আগে বেলজিয়ামের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৩১ মিনিটে কিছুটা ভাগ্যের সহায়তায় সমতায় ফেরে যুক্তরাষ্ট্র। মালিক তিলমানের নেওয়া ফ্রি-কিক হ্যান্স ভানাকেনের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে জড়িয়ে যায়। গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া কিছুই করতে পারেননি।

তবে সেই সমতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩৩ মিনিটে লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ডের দারুণ ক্রস থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ডি কেটেলারে। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই।

বিরতির পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে যুক্তরাষ্ট্র। কোচ মাউরিসিও পোচেত্তিনো একাধিক পরিবর্তন আনলেও তাতে খুব একটা লাভ হয়নি। বরং ৫৭ মিনিটে গোলরক্ষক ফ্রিসের বড় ভুলে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয় বেলজিয়াম। ডি-বক্সের বাইরে এসে বল নিয়ন্ত্রণে দেরি করায় ডি কেটেলারে বল কেড়ে নেন। পরে ভানাকেন ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে ৩-১ করেন।

এরপর রুডি গার্সিয়া বেঞ্চ থেকে লুকাকু ও ডোকুকে নামান। ম্যাচের শেষ দিকে কাউন্টার অ্যাটাকে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে বেলজিয়াম। অন্যদিকে কেভিন ডি ব্রুইনেকে পুরো ম্যাচেই বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন কোচ, যা নিয়ে বিস্ময় তৈরি হলেও দলের পারফরম্যান্সে তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বালোগুনও পুরো ম্যাচে ছিলেন নিষ্প্রভ। বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ তাকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে। ম্যাচজুড়ে তিনি উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি।

যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্ডার ক্রিস রিচার্ডসের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে চতুর্থ গোল করেন রোমেলু লুকাকু। সেই গোলেই ৪-১ ব্যবধানের দাপুটে জয় নিশ্চিত করে বেলজিয়াম।

এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে রুডি গার্সিয়ার দল। তবে জয়োৎসবের মাঝেই ওনানার চোট নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্পেনের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা এখন অনিশ্চিত। তবু যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এই দুর্দান্ত জয়ে বেলজিয়াম স্পষ্ট করে দিয়েছে—বিতর্ক যতই থাকুক, শেষ কথা বলে মাঠের ফুটবলই।