০৭ জুলাই ২০২৬, ১৪:২০

তারকা হওয়ার আগেই প্রেম, আছে এক বাচ্চাও: হালান্ডের প্রেমিকা কে এই ইসাবেল?

হালান্ড ও ইসাবেল   © সংগৃহীত

বিশ্বজোড়া খ্যাতি, অসংখ্য গোল আর রেকর্ডের মালিক আর্লিং হালান্ড। তবে ফুটবল মাঠের বাইরের জীবনে তিনি বরাবরই ব্যক্তিগত সম্পর্ককে রেখেছেন আড়ালে। তারকাখ্যাতি পাওয়ার অনেক আগেই যে মানুষটি জায়গা করে নিয়েছিলেন হালান্ডের হৃদয়ে, তিনি স্বদেশি ইসাবেল হাউগসেং জোহানসেন। শৈশবের বন্ধুত্ব থেকে শুরু হওয়া সেই সম্পর্ক এখন পরিণত হয়েছে ছোট্ট এক সুখী পরিবারে।

ম্যানচেস্টার সিটি ও নরওয়ে জাতীয় দলের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড দীর্ঘদিন ধরেই সম্পর্কে আছেন নরওয়ের ইসাবেল হাউগসেং জোহানসেনের সঙ্গে। দুজনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা একই শহর ব্রাইনে। ছোটবেলা থেকেই একই পরিবেশে বড় হয়েছেন তারা। শুধু তাই নয়, দুজনই স্থানীয় ক্লাব ব্রাইনে এফকের বয়সভিত্তিক দলে ফুটবল খেলেছেন।

ফুটবলই তাদের পরিচয়ের সেতুবন্ধন হলেও কৈশোরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। পরে ২০২১ সালের দিকে দুজন সম্পর্কে জড়ান। তখন হালান্ড ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিজের অবস্থান তৈরি করে ফেলেছেন। এরপর থেকে ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই দম্পতির ঘরে আসে প্রথম সন্তান। তবে সন্তানকে জনসম্মুখে না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। ছেলের নাম কিংবা ব্যক্তিগত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি হালান্ড ও ইসাবেল।

ইসাবেলও একসময় ফুটবল খেলতেন। যদিও পরে পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ে তোলেননি, তবু ফুটবল এখনো তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। নিয়মিত ভ্রমণ, ব্যক্তিগত জীবন ও বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ভাগ করে নেন তিনি।

বিশ্বকাপ চলাকালেও গ্যালারিতে বসে নরওয়েকে সমর্থন জানাতে দেখা গেছে ইসাবেলকে। টেক্সাসে সেনেগালের বিপক্ষে নরওয়ের শেষ ষোলোর ম্যাচে কাউবয়-অনুপ্রাণিত পোশাক ও হালান্ডের জার্সি পরে উপস্থিত হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি। পরে সেই পোস্টে মজার মন্তব্যও করেছিলেন হালান্ড।

তাদের সম্পর্ক নিয়ে সবচেয়ে মজার তথ্যটি জানিয়েছেন স্বয়ং হালান্ড। নরওয়ের সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সম্পর্কের প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছিলেন ইসাবেলই।

হালান্ড বলেন, ‘সে আমাকে প্রথম মেসেজ পাঠিয়েছিল। যেহেতু সে আমার পুরোনো ক্লাব ব্রাইনেতেই খেলত, তাই সেই আমার খোঁজখবর নিয়েছিল, আমি ওর খোঁজ নিইনি।’

ফুটবল মাঠের বাইরের জীবন নিয়েও কথা বলেছেন এই নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন। তিনি জানান, দুজনই সাধারণ জীবনযাপন করতে ভালোবাসেন। অবসর সময়ে একসঙ্গে ভিডিও গেম খেলেন।

হালান্ড বলেন, ‘সে-ও গেম খেলতে পছন্দ করে। তাই আমরা একসাথে মাইনক্রাফট খেলি। আমরা শুধু বসে বসে গেম খেলি, ঘরবাড়ি বানাই এবং এই ধরনের কাজই করি।’

বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জনের পরও ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রচারের আলো থেকে দূরে রেখেছেন হালান্ড ও ইসাবেল। ফুটবল-সংক্রান্ত অনুষ্ঠান বা বিশেষ উপলক্ষে তাদের একসঙ্গে দেখা গেলেও ব্যক্তিজীবন নিয়ে খুব কমই কথা বলেন তারা।

বাবা হওয়ার পর জীবনে বড় পরিবর্তন এসেছে বলেও জানিয়েছেন হালান্ড। স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'বাবা হওয়ার পর মাঠের বাইরের জীবন আরও বেশি উপভোগ করতে শিখেছি। সন্তান হওয়ার পর থেকে বাড়িতে ফিরলে ফুটবল থেকে পুরোপুরি দূরে থাকতে পারি। তখন আর ফুটবল নিয়ে ভাবি না।'

মাঠে প্রতিপক্ষের জালে একের পর এক গোল করেই বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন আর্লিং হালান্ড। আর ব্যক্তিগত জীবনে তার হৃদয় জিতে নেওয়া মানুষটি সেই শৈশবের সঙ্গী ইসাবেল হাউগসেং জোহানসেন—যার সঙ্গে তার সম্পর্ক শুরু হয়েছিল তারকা হওয়ারও অনেক আগে।