০৭ জুলাই ২০২৬, ১৩:২২

নেশনস লিগের আদলে নতুন টুর্নামেন্টের পরিকল্পনায় আর্জেন্টিনাসহ ৬ দল

আর্জেন্টিনা ফুটবল দল   © টিডিসি ফটো

বিশ্বকাপে খেলার টিকিট আগেই নিশ্চিত। তবু বাছাইপর্ব খেলবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে। শুধু তাই নয়, ইউরোপের দলগুলোর বিপক্ষে নেশনস লিগের আদলে নতুন একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও চলছে। ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এমনই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্যারাগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এপিএফ) সভাপতি রবার্ট হ্যারিসন।

২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হওয়ায় আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে আগেই মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। একই সুবিধা পেয়েছে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোও। ফলে ইতিহাসের প্রথমবারের মতো তিন মহাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ছয়টি দল স্বাগতিক হিসেবে সরাসরি অংশ নেবে।

বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে বিশেষ এই আসরে উদ্বোধনী তিনটি ম্যাচ হবে দক্ষিণ আমেরিকায়। উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে একটি করে ম্যাচ আয়োজন করবে। এরপর টুর্নামেন্টের বাকি অংশ অনুষ্ঠিত হবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোতে।

তবে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত হলেও দক্ষিণ আমেরিকার তিন স্বাগতিক দেশ বাছাইপর্বে অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন হ্যারিসন। একই সঙ্গে তিনি জানান, কনমেবল ও উয়েফা যৌথভাবে নতুন একটি প্রতিযোগিতা আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ করছে।

প্যারাগুয়ের 'রক অ্যান্ড পপ' রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হ্যারিসন বলেন, ‘আমরা আগেই ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছি, যেমনটা আর্জেন্টিনা এবং উরুগুয়েও করেছে। বাছাইপর্বে খেলে বাকি ৩টা দল চূড়ান্তপর্বে খেলবে। এছাড়াও আমরা উয়েফার সঙ্গে একটি নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করছি। এটি অনেকটা নেশনস লিগের মতো, যেখানে আমরা তাদের বিপক্ষে খেলতে পারব।’

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, ‘বাছাইপর্বে আপনার অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে আপনি ইউরোপ ১, ২ বা ৩ গ্রুপে থাকবেন এবং সেই ম্যাচগুলো থেকে আয় করতে পারবেন, কারণ ম্যাচগুলো ইউরোপেই হবে।’

বাছাইপর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্ব তুলে ধরে হ্যারিসন বলেন, ‘সেই ম্যাচের কারণে আপনি বাছাইপর্বটা সেরাভাবে শেষ করতে চাইবেন। আমরা যদি বাছাইপর্বে শুধু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে থাকি, তবে তার কোনো অর্থ থাকবে না, এটি ক্রীড়াসুলভও হবে না। আমাদের মান এখন আগের চেয়ে অনেক উঁচুতে উঠে গেছে।’

যদিও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে ২০২৭ সালের মার্চে ২০৩০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব শুরু হতে পারে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগের মতোই ‘সবাই সবার বিপক্ষে’ রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে কনমেবলের বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সূচিতে ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে নতুন টুর্নামেন্টের ম্যাচও যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের শীর্ষ দলগুলোর নিয়মিত লড়াই দেখার সুযোগ পাবেন ফুটবলপ্রেমীরা। ২০৩০ বিশ্বকাপকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতেই এমন নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।